বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Asim Munir)। এবার দাদা ইমরান খানের প্রাণ সংশয় নিয়ে মুনিরের বিরুদ্ধে সরব হলেন আলিমা খান। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, জেলবন্দি ইমরান খানের প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে, আর সেই সম্ভাবনার পেছনে আসিম মুনিরের ভূমিকা থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যে ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ইমরান খানকে (Imran Khan) খুন করতে চান খোদ আসিম মুনির? অভিযোগ বোনের:
সম্প্রতি জেলে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় আলিমা খানকে। তারপরই তিনি দাবি করেন, তাঁর দাদা তাঁকে বলেছেন যে, তাঁকে কারাগারেই হত্যা করা হতে পারে। প্রথমদিকে পরিবার এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চায়নি বলেও জানান আলিমা। তিনি বলেন, স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া এরকম গুরুতর অভিযোগ করতে তাঁরা অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবার তিনি বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, ইমরানকে নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে এবং তাঁরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও যথেষ্ট আশঙ্কিত।
আরও পড়ুন: ভারত পাবে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের প্রযুক্তি! দ্রুততম মিসাইলের রহস্যও জানাবে ইজরায়েল
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জেলবন্দি রয়েছেন। ইমরান এবং তাঁর সমর্থকদের দাবি, মামলাগুলি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বেশ অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই তিনি এবং তাঁর পরিবার সেনাপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে সরব হন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। কিছুদিন আগেই তাঁর দৃষ্টিশক্তি সমস্যার খবর প্রকাশ্যে আসে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটার পাকিস্তান সরকারের কাছে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিও পাঠান বলে জানা যায়। তার ওপর ভিত্তি করেই আলিমা দাবি তুলেছেন, ইমরানের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তর জানানোর, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হোক।

আরও পড়ুন:ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার! ডিজিটাল দুনিয়ায় অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সম্প্রতি কিছু চিকিৎসকরা ইমরানের হঠাৎ এই শারিরীক বিষক্রিয়ার পিছনে ধীর বিষক্রিয়ার সম্ভাবনার কথা ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখ করায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়। যদিও এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনও রকম প্রমাণ এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তাছাড়া পাক সরকারও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্যও করেনি। তবু পরিস্থিতির গুরুত্ব দেখে আন্তর্জাতিক মহলও এই বিষয়ে নজর রাখছে কারণ, বিষয়টি পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












