বাংলাহান্ট ডেস্ক: দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। মোদীর এই সফরে ভারত-ইজরায়েল (India-Israel) সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণ দেখা গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় আঞ্চলিক উদ্বেগের মধ্যে বুধবার ইসরায়েলে পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওইদিন তেল আভিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ বিমান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে সস্ত্রীক উপস্থথিত ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই সফরের শুরু থেকেই ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দিয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। কূটনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই সফর।
সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মউ স্বাক্ষর করতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল (India-Israel)
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সামরিক মউ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার পথও খুলবে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। যার ফলে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা ও উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিমা থেকে গ্যাসের দাম, এপ্রিল থেকেই একগুচ্ছ বদল, কোন ক্ষেত্রে খরচ বাড়বে, কোথায় কমবে?
ইজরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বলেন, বর্তমান অনিশ্চিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে আস্থাভাজন দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সম্ভাব্য মউ চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি অস্ত্র ও প্রযুক্তি আদানপ্রদানের বিষয়টিও আরও সুসংহত হবে। এর ফলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হলে ভারত পেতে পারে ইজরায়্ল এয়ারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিসের় তৈরি একাধিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। যার মধ্যে রয়েছে ‘ডেভিডস স্লিং’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। পাশাপাশি ‘আয়রণ ডোম’ যা স্বল্প পাল্লার রকেট প্রতিরোধে কার্যকর এবং ‘আয়রণ বিম’ যার লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার! ডিজিটাল দুনিয়ায় অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
এই গোটা বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘গোল্ডেন হরাইজন’ নামে দূরপাল্লার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করে বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। সামরিক ঘাঁটি থেকে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার পর্যন্ত ধ্বংসের ক্ষমতা থাকায় এই প্রযুক্তি কৌশলগত দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহুর্তে ভারত-ইজরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।












