বাংলা হান্ট ডেস্ক : একসময় রাজ্য প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র ছিল রাইটার্স বিল্ডিং (Writers Building)। সচিবালয় নবান্নে স্থানান্তরের পর দীর্ঘদিন ধরে কার্যত ফাঁকাই পড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক এই ভবনের বড় অংশ। এবার ধাপে ধাপে সেই ভবনকে ফের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রীর জন্য কক্ষ তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছে পূর্ত দফতর।
কবে থেকে রাইটার্স বিল্ডিং (Writers Building)- এ বসবেন মুখ্যমন্ত্রী?
রাইটার্সে প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরির কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়ে বুধবার দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের মধ্যে ছয় মন্ত্রীর কক্ষ প্রস্তুত করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত অংশের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনতলায় মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পাঁচ মন্ত্রীর বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। পর্যটনমন্ত্রীর ঘরের কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের জন্যও মহাকরণে কক্ষ নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিকদের বসার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে ভবনের একটি অংশকে ধীরে ধীরে ফের সরকারি কাজের উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
ভবিষ্যতে গোটা ভবনের সংস্কার কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই বৃহত্তর পরিকল্পনায় আদানি গোষ্ঠীকে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। ঐতিহাসিক ভবনের চরিত্র বজায় রেখে কী ধরনের সংস্কার করা সম্ভব, সেই বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে এই কাজের প্রাথমিক দিকটি খতিয়ে দেখতে স্থপতি রঞ্জন মিত্রকে দায়িত্ব দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী।
কারণ আগের সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পূর্ত দফতরের বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৩ সালে সচিবালয় নবান্নে চলে যাওয়ার পর প্রায় ১৩ বছর কেটে গেলেও রাইটার্সের সংস্কারের অর্ধেক কাজও সম্পূর্ণ হয়নি। অভিযোগ, পূর্ববর্তী সংস্কার পর্বে ইউরোপীয় টালির মতো কিছু পুরনো উপাদান হয় নষ্ট হয়েছে, নয়তো সেগুলির আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি তলায় ঐতিহাসিক টালি সরিয়ে গ্র্যানাইট বসানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : নেপালে নিখোঁজ একটি পরিবারকে বড় সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর, হাতে তুলে দেবেন নিজের এক মাসের বেতন
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে ১৭৭৭ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর রাজ্যের প্রধান সচিবালয় নবান্নে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই রাইটার্সের পুনর্গঠন নিয়ে নানা পরিকল্পনা হয়েছে।













