বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশের (Bangladesh) রেলপথে (Bangladesh Railways) আসতে চলেছে বৈদ্যুতিক ট্রেন (Electric Trains)। ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার বিদ্যুৎচালিত রেল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে বাংলাদেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি-সহ যাবতীয় কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা গেলে ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই এই রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা শুরু হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে।
অবশেষে বাংলাদেশে (Bangladesh) চলবে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন
তবে একটি গোটা দেশের রেলপথকে একসঙ্গে বৈদ্যুতিক করা সহজ কাজ নয়। শুধু বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন বা নতুন ট্রেন কিনলেই পরিষেবা শুরু করা সম্ভব নয়, যে পথে ট্রেন চলবে সেই রেলপথেরও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিকীকরণ করতে হবে। সেই কারণেই প্রথম ধাপে রাজধানী সংলগ্ন ব্যস্ত রেলপথকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজনও যথেষ্ট। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা ADB এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক বা EIB-এর ঋণ সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, ধাপে ধাপে পরিকাঠামো তৈরি করেই দেশের রেল ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক ট্রেনের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Bangladesh)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু রেললাইনের বৈদ্যুতিকীকরণ নয়, এই রুটের জন্য ১৬টি নতুন ট্রেনও কেনা হবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে পাঁচটি করে কোচ। ট্রেন চালানোর জন্য রেলপথের উপর বসানো হবে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর ট্রাকশন সাবস্টেশন তৈরি করার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপের বিষয়টিও এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ট্রেন পরিচালনার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে। এর সঙ্গে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় বেশ দেরিতে শুরু হচ্ছে। ভারতে বৈদ্যুতিক ট্রেনের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দী পুরনো। ভারতীয় রেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বম্বে ভিটি অর্থাৎ বর্তমান ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস এবং কুরলা হারবারের মধ্যে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছিল। এরপর কয়েক দশকে দেশের রেলপথে বৈদ্যুতিকীকরণ দ্রুত এগিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ ইতিমধ্যেই বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় এসেছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

আরও পড়ুন: অপেক্ষার অবসান! নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস ভারতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি
অন্যদিকে, পাকিস্তানের রেল ব্যবস্থার ছবিটাও আলাদা। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালু নেই এবং রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে মূলত ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে ইতিহাসের হিসাবে তৎকালীন পাকিস্তানে ১৯৭০ সালে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানোর একটি উদ্যোগ ছিল। সেই সময় অবশ্য বাংলাদেশ (Bangladesh) স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি এবং বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলটি তৎকালীন পাকিস্তানের অংশ ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দুই দেশের রেল ব্যবস্থা পৃথক পথে এগোয়। এবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে বাংলাদেশ নতুন করে বৈদ্যুতিক রেলের পথে পা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথম প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ রেলপথকে বৈদ্যুতিক পরিষেবার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।













