প্লাস্টিক বর্জ্য কাজে লাগিয়ে অভিনব ব্যবসা! হচ্ছে ২ কোটির আয়, অবাক করবে সিদ্ধার্থ-সুরজ-এলভিনের কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বর্জ্য পদার্থ থেকে কিভাবে সফল (Success Story) একটি ব্যবসা দাঁড় করানো যায় তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ তৈরি করেছেন এই তিন বন্ধু। সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট কিংবা নানা ধরনের বর্জ্য সাধারণত পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু কেরালার (Kerala) তিন উদ্যোক্তা সেই সমস্যার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা। সিদ্ধার্থ এ কে, অধ্যাপক সুরজ বর্মা এবং এলভিন জর্জ মিলে গড়ে তুলেছেন ‘কার্বন অ্যান্ড হোয়েল’ (Carbon and Whale) নামে একটি স্টার্টআপ। তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্লাস্টিক বর্জ্যকে শুধু পুনর্ব্যবহার করা নয়, সেটিকে এমন একটি পণ্যে পরিণত করা, যার বাস্তব বাজারমূল্য রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই সমুদ্র ও অন্যান্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে টেকসই আউটডোর আসবাব। উদ্যোগটির ফলও এসেছে দ্রুত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থাটি প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব করেছে।

কার্বন অ্যান্ড হোয়েলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

এই সাফল্যের পিছনে অবশ্যই রয়েছে বেশ কয়েক বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ২০২২ সালে সিদ্ধার্থ এ কে এবং অধ্যাপক সুরজ ভার্মা এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরের বছর তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন অ্যালভিন জর্জ। শুরুতেই তাঁরা প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে টাইলস তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, সেই উপাদানের শক্তি প্রত্যাশামতো হচ্ছে না। ফলে প্রাথমিক পরিকল্পনা কার্যত ব্যর্থ হয়। সেখানেই থেমে না গিয়ে সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করে দলটি। পলিমার বিজ্ঞানে অধ্যাপক সুরজ ভার্মার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা প্লাস্টিকের সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাডিটিভ ও ফিলার মিশিয়ে নতুন ধরনের একটি যৌগিক উপাদান তৈরি করেন। দেখতে অনেকটা কাঠের মতো হলেও সেটি যথেষ্ট মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেই উপাদান দিয়েই বিভিন্ন পণ্য তৈরির পথ খুলে যায় (Success Story)।

আরও পড়ুন: অপেক্ষার অবসান! নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস ভারতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি

কেরালার কোচিতে সিআইপিইটি-আইপিটি-র ইনকিউবেশন সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এরপর নিজেদের উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও গুছিয়ে নেয় ‘কার্বন অ্যান্ড হোয়েল’। বর্জ্য সংগ্রাহক এবং বিভিন্ন রিসাইক্লিং পার্টনারের কাছ থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে প্রথমে তা বাছাই ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে সেই প্লাস্টিক গুঁড়ো করে ছোট ছোট দানায় পরিণত করা হয়। এরপর এক্সট্রুশন প্রযুক্তির সাহায্যে সেই উপাদানকে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। এভাবেই তৈরি হচ্ছে বেঞ্চ, টেবিল, কিয়স্ক, ছাউনি-সহ নানা ধরনের আউটডোর আসবাব। সংস্থার তৈরি উপাদানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এটি জলরোধী, উইপোকা প্রতিরোধী এবং অতিবেগুনি রশ্মি বা UV-র প্রভাব সহ্য করতে পারে। ফলে খোলা জায়গায়, বিশেষ করে বৃষ্টি-রোদে, এগুলির স্থায়িত্ব যথেষ্ট বেশি বলে দাবি সংস্থার।

পরিবেশের উপর এই উদ্যোগের প্রভাবও কম নয়। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করেছে সংস্থাটি। সেই বর্জ্যকে নতুন পণ্যে পরিণত করে ইতিমধ্যেই রিসোর্ট, হোটেল এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৮০০-র বেশি ইউনিট বিক্রি করা হয়েছে। অর্থাৎ, যে প্লাস্টিক একসময় নদী বা সমুদ্রের পরিবেশে দূষণের কারণ হয়ে উঠতে পারত, তারই একটা অংশ এখন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী হিসেবে ফিরে আসছে। প্রতিষ্ঠাতাদের ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে এই চক্রাকার অর্থনীতির ধারণা—বর্জ্যকে ফেলে না দিয়ে তার মধ্যেই নতুন অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করা। ব্যবসা এবং পরিবেশ রক্ষার এই দুই দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

Success Story of Carbon and Whale will amaze you.

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, শেহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে জঙ্গি সংগঠন হিসাবে ঘোষণা কেন্দ্রের

এখন অবশ্য শুধু বর্তমান সাফল্যে থেমে থাকতে চাইছেন না সিদ্ধার্থ, সুরজ এবং এলভিন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২ কোটি টাকার রাজস্বের পর তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারের ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো। বর্তমানে মাসে প্রায় ১ থেকে ২ টন প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করা হলেও ভবিষ্যতে সেটিকে ৫০ থেকে ৭০ টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কেরালার গণ্ডি পেরিয়ে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতেও কিয়স্ক মডেল সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। ফলে তিন উদ্যোক্তার এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়; ফেলে দেওয়া প্লাস্টিককে কীভাবে নতুন পণ্যে বদলে পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই কাজে লাগানো যায়, তারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠছে (Success Story)।