বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীতে (Indian Army) অগ্নিবীর (Agniveer) হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে চলেছেন বাংলার একাধিক জেলার তরুণ-তরুণীরা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতার (Kolkata) যাদবপুর এলাকার সন্তোষপুরের কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীতে যোগদানে আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের জন্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত শারীরিক ও অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণকারী প্রার্থীদের এই বাছাই পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
অগ্নিবীর (Agniveer) নিয়োগে কলকাতায় বড় কর্মসূচি ভারতীয় সেনার!
এই নিয়োগ র্যালিতে কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের যোগ্য প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। শুধু পুরুষ প্রার্থীরাই নন, এই পর্বে মহিলা প্রার্থীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং সিকিমের বাছাই করা অগ্নিবীর (Agniveer) মহিলা মিলিটারি পুলিশ বা WMP প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতাকে কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে তিন রাজ্যের নির্বাচিত মহিলা প্রার্থীদের কাছেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পথে কলকাতার এই নিয়োগ র্যালি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীরা চার বছরের জন্য অগ্নিবীর হিসেবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পান। এই সময় তাঁদের সামরিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শারীরিক সক্ষমতা ও সামরিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার মতো বিষয়েও তাঁদের প্রশিক্ষিত করা হয়। অর্থাৎ, চার বছরের এই সময় শুধু সেনাবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি করে। প্রকল্পের আওতায় অগ্নিবীরদের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ এবং বিমা সংক্রান্ত সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।
চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অগ্নিবীরদের সামনে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়মিত ক্যাডারে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে সবাইকে নিয়মিত সেনা হিসেবে রাখা হয় না। নির্দিষ্ট ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে সাংগঠনিক প্রয়োজন, তৎকালীন নীতি এবং নির্ধারিত নির্বাচনী মানদণ্ড, যার মধ্যে তাঁদের কর্মদক্ষতাও রয়েছে, সেই ভিত্তিতে নিয়মিত ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে চার বছরের পরিষেবা পর্বে প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব পালনের দক্ষতা এবং সামগ্রিক কার্যসম্পাদন তাঁদের ভবিষ্যৎ সুযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণে আসবে দূষণ! কার্বন নিঃসরণ কমাতে Net Zero Portal লঞ্চ করল ভারত, কীভাবে হবে পর্যবেক্ষণ?
অগ্নিবীর (Agniveer) হিসেবে চার বছর সেনাবাহিনীতে কাটানোর ফলে যে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, তা পরিষেবা শেষ হওয়ার পরও কাজে লাগতে পারে। শৃঙ্খলা মেনে চলা, দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা, পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার মতো দক্ষতা বিভিন্ন পেশায় মূল্যবান বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত স্বীকৃত দক্ষতাও তাঁদের পরবর্তী কর্মজীবনে কাজে লাগার সম্ভাবনা তৈরি করে। সেই দিক থেকে কলকাতায় আয়োজিত এই অগ্নিবীর বাছাই পর্ব শুধু সেনাবাহিনীতে প্রবেশের একটি ধাপ নয়, অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।













