বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের (India) বিপুল অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) ক্রয় এবার আমেরিকার (America) নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভেও একটি বিল অগ্রসর হয়েছে। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে পারে। আর এমনটা হলে ভারত সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হতে পারে। মূলত, গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ তথা GTRI অনুসারে, ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৪০.৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের অপরিশোধিত তেল ক্রয় করেছে। এটি ছিল ভারতের মোট ১৩৪.৭ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০.৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুলাই মাস নাগাদ এক্ষেত্রে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব বেড়ে প্রায় ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। রাশিয়া থেকে প্রাপ্ত তুলনামূলকভাবে সস্তা অপরিশোধিত তেল ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। GTRI-এর মতে, এটি ভারতের তেল আমদানির ব্যয় কম রাখতে, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত (India) ৪ লক্ষ কোটির তেল কেনায় ‘ক্ষুব্ধ’ আমেরিকা!
ভারতের ওপর কী অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে: সোজা কথায়, এর উত্তর হল না। মূলত, বিলটি যদি আইনে পরিণত হয়েও সেক্ষেত্রেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে না। প্রস্তাবিত আইনটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যোগ্য দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা দেবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রশাসনকেই নিতে হবে। গত মঙ্গলবার মার্কিন হাউসে ২১৪-২১১ ভোটে বিলটি অগ্রসর করার জন্য একটি পদ্ধতিগত ভোট সম্পন্ন হয়। যা আগামী বুধবার চূড়ান্ত ভোটের পথ প্রশস্ত করেছে। এর আগে, মার্কিন সেনেটে গত ৭ আগস্ট ৮৬-১১ ভোটের ব্যবধানে এটি পাস করেছিল।

বিলে ভারতের নামও রয়েছে: সেনেটে পাস হওয়া মূল সংস্করণে ভারত ও চিনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বৃহত্তম ৫ ক্রেতার ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে, হাউসে আনা একটি সংশোধনীতে সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় ভারত-সহ ১০ টি দেশকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারত ও চিন ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে তুরস্ক, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।
আরও পড়ুন: UPI পেমেন্টে কেন লাগু হচ্ছে চার্জ? স্পষ্ট করল NITI Aayog
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ওপর প্রভাব: জানিয়ে রাখি যে, এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য শুল্কের বিষয়টি এই আলোচনায় অতিরিক্ত চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। GTRI বলেছে যে, রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি কেবল ভারতের জ্বালানি নীতির বিষয় নয়, এটি আমেরিকায় ভারতীয় রফতানিকেও প্রভাবিত করতে পারে। তবে, এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমেরিকা কর্তৃক আরোপিত শুল্কের পরিমাণ এবং এর আওতাভুক্ত পণ্যগুলির ওপর।
ভারত কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে: উল্লেখ্য যে, ভারতের জন্য পরিস্থিতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়া থেকে আসা অপরিশোধিত তেল তার মোট তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। অপরদিকে, আমেরিকা ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রফতানি বাজার। এমতাবস্থায় অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য মার্কিন বাজারে পণ্য বিক্রি করা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে সস্তা তেল কেনা কমে গেলে ভারতের আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম প্রভাবিত হতে পারে। সামগ্রিকভাবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে শুল্কের হার, প্রযোজ্য পণ্য এবং ভারতের ভবিষ্যৎ তেল ক্রয় নীতির ওপর।













