নিয়ন্ত্রণে আসবে দূষণ! কার্বন নিঃসরণ কমাতে Net Zero Portal লঞ্চ করল ভারত, কীভাবে হবে পর্যবেক্ষণ?

Published on:

Published on:

India launches Net Zero Portal to reduce carbon emissions.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: কার্বন নিঃসরণ কমাতে নেট জিরো পোর্টাল (Net Zero Portal) লঞ্চ করল ভারত। জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) প্রভাব এখন আর শুধু পরিবেশের মধ্যেই আটকে নেই। অনিয়মিত আবহাওয়া থেকে কৃষি, জলসম্পদ, মানুষের স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অর্থনীতিও। তাই গ্রিনহাউস গ্যাসের (Green House Has) নিঃসরণ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে নেট জিরোর লক্ষ্যে পৌঁছনো এখন বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে ভারতও জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগগুলিকে আরও তথ্যনির্ভর ও স্বচ্ছ করার দিকে এগোচ্ছে। বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মুম্বইয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং ভারতের নেট জিরো পোর্টাল এবং National Action Plan on Climate Change বা NAPCC ড্যাশবোর্ড চালু করেছেন। সরকারের লক্ষ্য, দেশের জলবায়ু সংক্রান্ত কাজকর্মের অগ্রগতি যাতে তথ্যের ভিত্তিতে সহজে পর্যালোচনা করা যায়।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে Net Zero Portal লঞ্চ করল ভারত:

নতুন নেট জিরো পোর্টালটি (Net Zero Portal) মূলত ভারতীয় কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যোগ্য সংস্থার জন্য তৈরি। কোনও সংস্থা ভবিষ্যতে নেট জিরো অর্জনের লক্ষ্য নিলে, তারা স্বেচ্ছায় সেই লক্ষ্যমাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য এই প্ল্যাটফর্মে জমা দিতে পারবে। শুধু লক্ষ্য ঘোষণা করাই নয়, প্রতি বছর গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কতটা কমল এবং নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে সংস্থাটি কতটা এগোতে পারল, সেই তথ্যও এখানে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ কোনও প্রতিষ্ঠানের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে তার বাস্তব অগ্রগতির ছবিও তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। যোগ্য সংস্থাগুলিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্বীকৃতিপত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘোষণাগুলি সাধারণ মানুষের জন্য পোর্টালে প্রকাশ্য থাকবে।

আরও পড়ুন: ‘বুলেটের মতো ডিম খেয়েছি’! ফের হামলার মুখে পড়তেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ‘ধন্যবাদ’ মহুয়ার

নেট জিরোর পথে একটি সংস্থা ঠিক কীভাবে এগোচ্ছে, সেই ছবিটিও এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সংস্থাগুলিকে Scope 1 এবং Scope 2 নির্গমনের তথ্য জমা দিতে উৎসাহিত করেছে, যদিও Scope 3-এর তথ্য দেওয়া আপাতত ঐচ্ছিক। Scope 1 বলতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাজকর্ম থেকে সরাসরি তৈরি হওয়া নির্গমনকে বোঝায়। Scope 2-এর ক্ষেত্রে ক্রয় করা বিদ্যুৎ বা অন্য কোনও শক্তি ব্যবহারের ফলে তৈরি নির্গমন হিসেবের মধ্যে আসে। আর Scope 3 অনেক বিস্তৃত—সরবরাহকারী, পরিবহণ, পণ্য ব্যবহার-সহ গোটা ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত পরোক্ষ নির্গমন এর আওতায় পড়ে। সংস্থাগুলি তাদের নির্গমন কমানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেমন পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শক্তির দক্ষতা উন্নত করা বা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, সেই কৌশলগুলিও পোর্টালে তুলে ধরতে পারবে।

এর পাশাপাশি চালু হওয়া NAPCC ড্যাশবোর্ডের লক্ষ্য আরও বড় পরিসরে জলবায়ু সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি সামনে আনা। জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনার অধীনে বিভিন্ন জাতীয় মিশনের কাজ, সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং নির্ধারিত সূচকগুলিকে একটি জায়গায় নিয়ে আসবে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ফলে কোন প্রকল্প কতটা এগিয়েছে, কোথায় কাজের গতি ভালো এবং কোন ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও বিভাগগুলি আরও সহজে বুঝতে পারবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জলবায়ু প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও সহজ হবে।

India launches Net Zero Portal to reduce carbon emissions.

আরও পড়ুন:২৬/১১-র হামলায় পাকিস্তান যোগ স্পষ্ট পাক নথিতেই! রেড বুকে ১৯ জন জঙ্গির নাম প্রকাশ ইসলামাবাদের

দুটি প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগে তথ্য ও স্বচ্ছতার গুরুত্বই সামনে আনতে চাইছে কেন্দ্র। একদিকে নেট জিরো পোর্টাল (Net Zero Portal) দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছামূলক কার্বন-হ্রাসের অঙ্গীকারকে একটি সম্মিলিত নথিতে পরিণত করবে, অন্যদিকে NAPCC ড্যাশবোর্ড সরকারি জলবায়ু মিশনগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা তৈরি করবে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্যোগগুলির সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক জলবায়ু অঙ্গীকারের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, নেট জিরোর লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি সেই লক্ষ্যে বাস্তবে কতটা এগোনো গেল, ভবিষ্যতে সেই হিসেব রাখার ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার পথে এগোল ভারত।