বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২৬/১১ মুম্বই হামলার (Mumbai Attack) প্রায় ১৮ বছর পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তান (Pakistan)। সরাসরি কোনও দায় স্বীকার না করলেও, পাকিস্তানের ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা FIA-এর সাম্প্রতিক ‘রেড বুক’-এ মুম্বই হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত কয়েকজনের নাম উঠে আসায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, করাচি থেকে সমুদ্রপথে মুম্বই পৌঁছনো হামলাকারীদের যাত্রাপথ এবং অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ১৯ জনের নাম তালিকায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বোটের ক্রু সদস্য, চালক এবং হামলার জন্য অর্থ জোগাড়ে জড়িত ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। FIA-র তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে এদের অনেকেরই সন্ধান মেলেনি। পাকিস্তানের সরকারি সংস্থার নথিতে এই নামগুলির উপস্থিতিই তাই ২৬/১১-র তদন্ত ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে পুরনো প্রশ্নকে ফের সামনে এনে দিয়েছে।
২৬/১১-র হামলায় যুক্ত ১৯ জন জঙ্গির নাম প্রকাশ পাকিস্তানের (Pakistan):
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালানো হয়। একাধিক জায়গায় হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। ভারতীয় তদন্তে হামলার সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার যোগ এবং একাধিক পাকিস্তানি (Pakistan) হ্যান্ডলারের ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লাকভি, সাজিদ মির-সহ ছয় পাকিস্তানি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়েছে। আদালতের নির্দেশ পৌঁছে দিতে ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়ার উদ্যোগও হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৫ হাজার থেকে একলাফে ২৫ হাজার! বেসরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট ঘোষণা কেন্দ্রের
তবে পাকিস্তানের রেড বুকে নাম ওঠার বিষয়টি নিয়েও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ভারত যে ব্যক্তিদের ২৬/১১-র ষড়যন্ত্র ও হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছে, তাঁদের সবাইকে একইভাবে ওই তালিকায় রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হাফিজ সইদ ও জাকিউর রহমান লাকভির মতো নামগুলি ২৬/১১ মামলায় ভারতের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ পাকিস্তানের নিজস্ব নথিতে কার নাম কীভাবে এবং কোন অভিযোগে রয়েছে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। ফলে শুধু কোনও ব্যক্তির নাম রেড বুকে থাকা মানেই পাকিস্তান ২৬/১১-র সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের দায় স্বীকার করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে নথির নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনি অবস্থাও দেখা জরুরি। পাকিস্তানের FIA নিজেও জানিয়েছে, তাদের রেড বুকে থাকা অভিযুক্ত ও পলাতকদের আইনি অবস্থান সংশ্লিষ্ট আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন উঠছে, এত বছর পর ২৬/১১-র সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাম নিয়ে পাকিস্তানের সরকারি নথি কেন নতুন করে সামনে এল? এর সঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রুখতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার চাপের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। FIA-র কাউন্টার টেররিজম উইং সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের রেড বুক প্রস্তুত করে। সংস্থার নথিতেই বলা হয়েছে, এই তালিকার উদ্দেশ্য উচ্চপ্রোফাইল সন্ত্রাসবাদী ও তাঁদের সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ফলে সাম্প্রতিক তালিকায় নতুন নাম বা পুরনো মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের অংশও হতে পারে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে রাজ্যের সব অঙ্গনওয়াড়িতে ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’, হাজির থাকতে হবে কর্মীদের
এরই মধ্যে ২৬/১১ মামলায় ভারতের আইনি পদক্ষেপও নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাফিজ সইদ-সহ ছয় পাকিস্তানি (Pakistan) অভিযুক্ত বর্তমানে ভারতের আওতার বাইরে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুম্বই পুলিশের তরফে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় দুই দশক পরও ২৬/১১-র তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া থেমে নেই। পাকিস্তানের রেড বুকে ১৯ জনের নাম ওঠার ঘটনাও সেই পুরনো মামলাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে এই তালিকা থেকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে—এমন দাবি করার বদলে বলা যায়, তাদের সরকারি তদন্তকারী সংস্থার নথিতে ২৬/১১-র সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাম থাকা ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।













