বালি-পাথর-কয়লা থেকে বিপুল আয় সরকারের, রাজস্বে ১ নম্বরে বীরভূম! তালিকায় আরও ৪ জেলা

Published on:

Published on:

West Bengal government revenue from the district increased
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বালি, পাথর ও কয়লার মতো খনিজ সম্পদ থেকে রাজ্যের কোষাগারে বিপুল টাকা ঢুকেছে। রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসে এই তিন খাত থেকে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আর জেলা ধরে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে বীরভূম থেকে।

রাজস্ব বাবদ আয় বাড়ল রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)

১৬ এপ্রিল থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চার মাসে বালি, পাথর ও কয়লা থেকে রাজ্যের মোট আয় হয়েছে ৫৬৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়সীমায় আদায় হয়েছিল ৪২৮ কোটি ২০ লক্ষ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত ১৩৯ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা রাজস্ব এসেছে সরকারের হাতে। হার প্রায় ৩৩ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ‌।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানেও বীরভূম সবার আগে। ওই সময়ের মধ্যে এই জেলা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের অঙ্ক ২৩৫ কোটি টাকা। ঝাড়গ্রাম থেকে ৭০ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা, পূর্ব বর্ধমান থেকে ৫৬ কোটি ১২ লক্ষ, বাঁকুড়া থেকে ৫৩ কোটি ৬ লক্ষ এবং পশ্চিম বর্ধমান থেকে ৪৮ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব এসেছে। অর্থ দফতরের সূত্রের হিসাবে, বীরভূমে চার মাসের রাজস্ব সংগ্রহ বেড়েছে ৪১ শতাংশ। পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়গ্রামের ক্ষেত্রে রাজস্ব বৃদ্ধির হার আরও বেশি—প্রায় ৫১ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের প্রসঙ্গ। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকালে এই জেলাকে ঘিরে বালি, কয়লা, পাথর এবং গরু পাচার সংক্রান্ত নানা অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে বারবার বিতর্ক হয়েছে। সেই বীরভূম থেকেই এখন খনিজ সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয় আসার দাবি করছে রাজ্য সরকার।

West Bengal government revenue from the district increased

আরও পড়ুন : প্রথম মহিলা সেনা আধিকারিক হিসাবে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারী! চমকে দেবে নব্যা শেখাওয়াতের পরিচয়

রাজস্ব আদায় নিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, “একটা আইটেমে একটা জেলায় বছরে ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে৷ তার মানে একটা জেলাতেই ১৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি ক্ষতি হয়েছে৷ এই টাকা দিয়ে সরকার অনেক উন্নয়ন করতে পারত, হাসপাতাল- স্কুল তৈরি করা যেত৷ লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েকে চাকরি দেওয়া যেত৷ এটা প্রশাসনের শীর্ষে যিনি আছেন তাঁর সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়৷” রাজ্য সরকারের দাবি, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে ছবিটা বদলেছে। তারই প্রতিফলন হিসেবে বালি, পাথর ও কয়লা থেকে মাত্র চার মাসে ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি সরকারি আয় হয়েছে।