বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল আমলে (Trinamool Congress) জেলের ভিতরে বন্দিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য। খাবার, ঘুমানোর জায়গা কিংবা অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দিতে হয় বলে যে অভিযোগ উঠেছে,তা নিয়েই এবার সরাসরি রাজ্যের কাছে জবাব চাইল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলের মধ্যে তোলাবাজিতে, রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
মামলাকারীর দাবি, বন্দিদের একটি বড় অংশকে জেলের ভিতরে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে নিয়মিত টাকা দিতে হয়। কোনও ক্ষেত্রে একজন বন্দির কাছ থেকে মাসে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সেই পরিমাণ বেড়ে ২৫ হাজারে পৌঁছচ্ছে। শুধু নগদে নয়, নির্দিষ্ট পরিষেবা পাওয়ার জন্য অনলাইনেও টাকা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যাচ্ছে, সংশোধনাগারে থাকা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বন্দিকে এই অর্থ দিতে হয়। বিষয়টি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, নাকি একাধিক জেলে একই ধরনের ব্যবস্থা চলছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে আদালতে।
উল্লেখ্য, বালুরঘাট জেলকে ঘিরে আলাদা করে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সংগঠিতভাবে আদায় করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলেও একই ধরনের অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী তৌহিদ ইসলাম।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে-জুন মাসে ২৭ দিন জেলে থাকার সময় এক আইনজীবী নিজে দুর্নীতি এবং টাকা আদায়ের একাধিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাকেও মামলার অভিযোগের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে জেলগুলিতে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়েছে। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে।

আরও পড়ুন : ওটিটিতে কী ধরনের কনটেন্ট? খতিয়ে দেখতে নিজস্ব নজরদারি কমিটি গঠন
মামলাকারীর পক্ষ থেকে এই টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেআইনি ভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ ঠেকাতে পৃথক আইনি ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত আইনে ‘তোলাবাজি’কে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাইকোর্টে রাজ্যের রিপোর্ট জমা পড়ার পর জেলগুলিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এখন সেদিকেই নজর।













