সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, শেহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে জঙ্গি সংগঠন হিসাবে ঘোষণা কেন্দ্রের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সীমান্তপারের সন্ত্রাস ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government of India)। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (Shehzad Bhatti Gang)-কে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা UAPA-র আওতায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে UAPA-র ৩৫(১)(এ) ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংগঠনটিকে আইনের প্রথম তফসিলে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভারতীয় আইনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত সংগঠনের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হল। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই নেটওয়ার্ক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।

শেহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে (Shehzad Bhatti Gang) জঙ্গি সংগঠন হিসাবে ঘোষণা কেন্দ্রের:

কেন্দ্রের অভিযোগ, পাকিস্তানে স্থিত এই নেটওয়ার্ক সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণ, ছোটখাটো অপরাধী এবং সহজে প্রভাবিত হতে পারেন এমন ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবাদে টানার চেষ্টা করা হত বলেও দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সরকারি নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের উগ্রপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত করা, নাশকতার জন্য অর্থ ও অন্যান্য রসদ জোগাড় করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে। উসকানিমূলক ডিজিটাল বার্তা ছড়িয়ে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (Shehzad Bhatti Gang)।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণে আসবে দূষণ! কার্বন নিঃসরণ কমাতে Net Zero Portal লঞ্চ করল ভারত, কীভাবে হবে পর্যবেক্ষণ?

এর আগে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। ১২ অগস্ট রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের ভিত্তিতে ১৪টি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেই অভিযানে ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছিল এবং নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ৮০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়। একই সঙ্গে ২০০-র বেশি গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি, পঞ্জাব, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।

অভিযানের সময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ছিল আইইডি, পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা। পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেড উদ্ধারের কথাও সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত থেকে নেটওয়ার্কটির সীমান্তপারের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, SBN-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে UAPA ছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক সংক্রান্ত আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মতো একাধিক আইনে মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬/১১-র হামলায় পাকিস্তান যোগ স্পষ্ট পাক নথিতেই! রেড বুকে ১৯ জন জঙ্গির নাম প্রকাশ ইসলামাবাদের

এই পরিস্থিতিতেই বুধবার সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে UAPA-র প্রথম তফসিলে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নতুন গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদের কার্যকলাপ দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে বলে সরকারের মূল্যায়ন। ফলে এবার থেকে সংগঠনটি UAPA-র আওতায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে আইনি কাঠামোর মধ্যে পড়বে। পাশাপাশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সহযোগী চক্রগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা আরও এগোনোর পথও প্রশস্ত হল (Shehzad Bhatti Gang)।