বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় ক্ষমতার আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এবার পশ্চিমবঙ্গের সমাজ সংস্কার নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বললেন গোটা বাংলা নেশায় ডুবে গিয়েছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে তুলনা টানলেন সুদূর জম্মু কাশ্মীরের (Jammu Kashmir)।
গোটা বাংলা নেশায় ডুবে গিয়েছে, উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
বাংলাজুড়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের জন্য তথা সমাজ সংস্কারের জন্য জৈন কমিউনিটিকে আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশাবাদী, ‘একদম নিশ্চিন্ত থাকুন, রাষ্ট্রবাদী শক্তি এগিয়ে যাবে। চিন্তার কোন কারণ নেই। আমাদের নেতা মোদিজি। আমরা সিপাহী, ভালো কাজই হবে। সবাই মিলে করব, সবাই ফিরে আসুন, কাজ করুন, ব্যবসা বাড়ান, ইনভেস্টমেন্ট করুন। কোন কিছুর দরকার হলে সরকার আপনাদের সাথে থাকবে। ‘
জোর গলায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবী করেছেন, ‘ জৈন কমিউনিটি যেখানেই থাকুক প্রত্যেক প্রদেশে, প্রত্যেক দেশে এরা অনেক সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকেন। শিক্ষাক্ষেত্রে থেকে শুরু করে সমাজ সংস্কারের কাজও করে থাকেন। এখানেও আপনারা আপনাদের কাজ আরো গতি বাড়ান। আমাদের এখানকার জনতাকে এত পরিমাণ দূষিত করে দিয়েছে। যেমন পিএম সাহেব নেশা মুক্তি অভিযান চালাচ্ছেন। বাংলার প্রায় দিন ড্রাগ জাতীয় জিনিস উদ্ধার হচ্ছে, আমি নিজে গিয়ে বুলডোজার চালিয়েছি আপনারা দেখেছেন তো? ২ লাখের ওপরে বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছি।’
আরও পড়ুনঃ নদিয়াতে অ্যাস্ট্রো পার্ক, কালিম্পঙে স্যাটেলাইট বায়োটেক হাব, বড় চুক্তি IIT খড়্গপুর ও রাজ্য সরকারের
এরপরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘এইসব চাই। এই কিশোরীদের বিয়ে, কিশোরীদের গর্ভধারণ এসবের পরিসংখ্যান দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন কিভাবে পুরো বরবাদ হয়ে গিয়েছে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গ আর জম্মু-কাশ্মীরের সাথে কম্পিটিশন করছে। তাও আবার বাল্যবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী মেয়েদের গর্ভাবস্থা নিয়ে।’
এখানেই শেষ নয়, একরাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলার প্রতিটি এলাকায় এত নেশা, এত আসক্তি পুরো ছেয়ে গিয়েছে। সমাজ সংস্কারের জন্য এই জৈন সমাজকে এগিয়ে আসা উচিত, কাউন্সিলিং করা উচিত । আর আপনাদের ভগবানের যে ভাব রয়েছে সেটাও প্রচার করা উচিত। এতে শান্তি ফিরে আসবে, সমাজ সংস্কার হবে। আমাদের ভিতরে যা যা খারাপ জিনিস আছে সব বেরিয়ে যাবে। সব ভালো ভিতরে প্রবেশ করবে। এইজন্য জৈন কমিউনিটিকে পুরো প্রদেশে সরকারের সাথে দাঁড়িয়ে অনেক কাজ করতে হবে।’
সবশেষে তিনি বললেন, ‘একটা কংক্রিট রোড ম্যাপ বানিয়ে নিন, এক দেড়-দুই ঘন্টা একটা আলোচনাও হওয়া দরকার আমাদের। চার মাস তো আমি ব্যস্ত ছিলাম। দুর্গাপুজোর পর কারুর বাড়িতে ভালো করে, ১০-১৫ জন লোককে ডেকে নিন, যারা চিন্তা-ভাবনা করেন যারা কাজের মানুষ ।তাদের ওপর আমাকে একটা রোডম্যাপ বানিয়ে দিন। আর আপনাদের সমাজের কাজ ও কলকাতা সহ অন্যান্য যে যে এলাকায় আছে সবাইকে একজোট করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একসাথে কাজ করবে। আমি আপনাদের মানুষ, সরকার আপনাদের। এটা মেনে নিয়ে আপনারা এগিয়ে চলুন।’













