বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক হামলা, ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হরমুজে তৈলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি ভারতীয় জাহাজে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে মার্কিন বাহিনী সেই হামলা সফল হতে দেয়নি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। যদিও তাঁর দাবি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত ভারত বা ইরানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
ভারতীয় জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান! চাঞ্চল্যকর দাবি ট্রাম্পের (Donald Trump)
সম্প্রতি ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আমেরিকা নাকি তেহরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। সেই দাবিকে সরাসরি ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিবৃতি দেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ইরানের প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও মিল নেই এবং শান্তি আলোচনা সম্পর্কেও তারা বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়াচ্ছে। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, গত রাতে হরমুজ প্রণালী ছেড়ে যাওয়া ভারতীয় জাহাজগুলির উপর ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছিল এবং সেই হামলার নেপথ্যে ছিল ইরান। মার্কিন বাহিনীর তৎপরতায় সেই হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কোন ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলার চেষ্টা হয়েছিল, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
আরও পড়ুন: ছেড়েছেন সরকারি চাকরি! সফল স্টার্টআপের মাধ্যমে ১৫০ কোটির ব্র্যান্ড তৈরি করে নজির গড়লেন হিমাংশু
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মার্কিন সামরিক অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গত ৮ জুন পালাউ-পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার ঘটনায় জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, এর কিছুদিন আগে গিনি-বিসাউ-পতাকাবাহী ‘জলবীর’ নামের আরেকটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়, যেখানে ২০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। যদিও সেই ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর মার্কিন প্রশাসন দায় স্বীকার করায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের জড়িয়ে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে এবং সরকার প্রতিটি ঘটনার উপর নিবিড় নজর রাখছে। তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যতরীর উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনাকে ভারত অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক পথে পরিস্থিতির সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই আবহেই ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ভারতীয় জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছেন তিনি, অন্যদিকে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় আমেরিকার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ফলে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের নজর এখন ভারত, আমেরিকা ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে।














