বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। লক্ষ্য একটাই ভোট যেন একদম নির্ভুলভাবে হয়, আর কোনও ভোটারের অধিকার যেন কোথাও বাধা না পায়। সেই কারণেই ভোটকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের (Election Duty Training) ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরজন্য ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে নিখুঁত করতে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মার্চের শেষ সপ্তাহ কিংবা এপ্রিলের শুরু থেকেই এই প্রশিক্ষণ শুরু হতে পারে।
প্রশিক্ষণের (Election Duty Training) আগে কী কী দেখে নিতে হবে?
প্রশিক্ষণে (Election Duty Training) যাওয়ার আগে ভোটকর্মীদের নিজেদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করা জরুরি। প্রথমেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি কোড ঠিক আছে কিনা তা মিলিয়ে নিতে হবে, কারণ এই অ্যাকাউন্টেই ডিউটির টাকা পাঠানো হবে। কোনও ভুল থাকলে প্রথম দিনেই তা সংশোধনের জন্য জানাতে বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি এপিক কার্ডের তথ্য, পার্ট ও সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে দেখা, এবং নির্দিষ্ট স্ট্যাম্পসহ পাসপোর্ট সাইজ ছবিযুক্ত আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রথম দিনের ট্রেনিংয়েই পোস্টাল ব্যালটের (ফর্ম ১২ ও ১২এ) কাজ সেরে ফেলতে হবে। ইডিসি প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দিন বা পি-মাইনাস ওয়ান দিনে ফর্ম ১২বি সংগ্রহ করা যাবে।
ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ
ভোটের দিন যাতে মেশিন সংক্রান্ত কোনও সমস্যা না হয়, তাই এবার ছোট ছোট দলে (৪০-৫০ জন) ভাগ করে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই মক ড্রিল শেষে প্রত্যেক কর্মীকে একটি স্যাটিসফ্যাকশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে, যা প্রমাণ করবে যে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেশিন পরিচালনায় সক্ষম।
প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নয়া নির্দেশিকা
নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভোট প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- অন্ধ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম ১৪এ খুব সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে এবং সাহায্যকারীর ঘোষণাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- রুল ৪৯এমএ অনুযায়ী টেস্ট ভোটের নিয়ম এবং ফর্ম ১৭সি-তে ভোটের সঠিক হিসাব রাখার পদ্ধতি শেখানো হবে।
এছাড়া প্রিসাইডিং অফিসারদের ইসিআই নেট অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সরাসরি আপলোড করতে হবে। সাধারণ ভোটারদের জন্য বুথে মোবাইল ফোন জমা রাখার আলাদা ব্যবস্থাও থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে বড় পদক্ষেপ! হাই কোর্টে ছুটলেন বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্দা, কেন?
ভোট শুরুর আগে মক পোল করা, এরপর মেশিনের ডেটা ক্লিয়ার করে ক্লোজ ও রেজাল্ট বা সিআরসি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তারপর ভিভিপ্যাটের ব্ল্যাক বক্স সহ বিভিন্ন অংশ নির্দিষ্ট রঙের পেপার সিল দিয়ে সঠিকভাবে সিল করতে হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর রিসিভিং সেন্টারে জিনিসপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন প্যাকেটিং পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। প্রথম দিনেই ভোটকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা, চেকলিস্ট এবং সিনোপটিক হ্যান্ডআউট, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় (Election Duty Training)।












