বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৎপরতা বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু তার আগেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। এবার রাজ্যের আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। কোন আধিকারিক কোথায় কতদিন কাজ করতে পারবেন, কাদের বদলি বাধ্যতামূলক, সবকিছু স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়।
ভোটমুখী রাজ্যের মুখ্য সচিবদের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কমিশন (Election Commission)
ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে ভোটমুখী রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের কাছে। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছেও এর প্রতিলিপি পৌঁছে দিয়েছে কমিশন (Election Commission)। চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষিতেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসনিক রদবদলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়?
নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যদি কোনও আধিকারিক গত চার বছরের মধ্যে তিন বছর নিজের জেলায় কর্মরত থাকেন, তাহলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে বদলি করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে পদোন্নতি হলেও সেটিকে ওই সময়সীমার মধ্যেই ধরা হবে। কমিশন (Election Commission) আরও জানিয়েছে, বদলির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর হবে।
কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই নিয়ম?
নির্দেশিকা অনুযায়ী যেসব পদাধিকারীদের বদলি বাধ্যতামূলক তারা হল –
- ডিইও বা জেলাশাসক
- রিটার্নিং অফিসার (আরও)
- সহকারী রিটার্নিং অফিসার (এআরও)
- ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)
- সহকারী ইআরও
- অতিরিক্ত জেলাশাসক
- মহকুমাশাসক
- ডেপুটি বা যুগ্ম কালেক্টর
- বিডিও
এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বদলির আওতায় থাকবেন –
- এডিজি
- আইজি
- ডিআইজি
- এসএসপি
- পুলিশ সুপার
- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
কমিশন (Election Commission) আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচন বা কোনও উপনির্বাচনে যেসব আধিকারিক জেলাশাসক, রিটার্নিং অফিসার বা পুলিশ ইনস্পেক্টর পদে যে জেলায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এবার তাঁদের সেই একই জেলায় পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
কারা এই বদলির বাইরে?
সব আধিকারিকের ক্ষেত্রেই অবশ্য এই নিয়ম কার্যকর হবে না। সদর দফতরে কর্মরত আধিকারিকদের জন্য এই বদলি নির্দেশ প্রযোজ্য নয়। নবান্নে কর্মরত আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একই ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাঁরা চলতি বছরের মে-জুন মাসের মধ্যে অবসর নেবেন, তাঁদের বদলি করা হবে না। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, অবসর নিতে চলা আধিকারিকদের নির্বাচনী কোনও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
ভোট ঘোষণার পর সব নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে একটি মুচলেকা জমা দিতে হবে। সেখানে জানাতে হবে, তাঁদের কোনও নিকটাত্মীয় ভোটে প্রার্থী নন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। যদি এই তথ্যের অন্যথা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
এই সমস্ত বদলি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব বদলি সম্পন্ন করতে হবে। ওই দিনই কমিশনের (Election Commission) কাছে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। তার আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে কমিশন।

আরও পড়ুনঃ গ্রুপ-বি তালিকায় অবসরপ্রাপ্তদের নাম! বড় অনিয়মের অভিযোগ শুভেন্দুর
নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন (Election Commission) যে কতটা কড়া অবস্থান নেয়, তার উদাহরণ আগেও দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে লাভলি মৈত্রের নাম ঘোষণা হওয়ার পর তাঁর স্বামী সৌম্য রায়কে প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। একইভাবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কমিশন আগেভাগেই এই কড়া পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












