ফর্ম জমা দিলেই হবে না, এই শর্ত পূরণ করলেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তি

Published on:

Published on:

first installment of Annapurna Yojana only if you fulfill these conditions
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’কে (Annapurna Yojana) ঘিরে এবার শুরু হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আবেদনপত্র বিতরণ ও জমা নেওয়ার পর এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা। সেই উদ্দেশ্যেই সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে আবেদন যাচাইয়ের বিস্তৃত প্রক্রিয়া। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করবেন।

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় (Annapurna Yojana) টাকা ট্রান্সফার

পরিবারের আর্থিক অবস্থা, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা গেলে আগামী ৩ জুন থেকেই যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছতে শুরু করবে।রাজ্যের ২২টি জেলার জন্য পৃথকভাবে ২২ জন উচ্চপদস্থ আমলাকে নজর রাখবেন আবেদনপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে। বিশেষ করে আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাধ্যমে ফর্ম সঠিকভাবে মানুষের হাতে পৌঁছচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন তাঁরা। প্রশাসনিক মহলে জানা গিয়েছে, ২ জুনের মধ্যেই নির্ধারিত কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। কারণ তার পরের দিন থেকেই অর্থ প্রদান কর্মসূচি চালু করার লক্ষ্য স্থির করেছে রাজ্য।

এদিকে ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে। ফর্মে একাধিক তথ্য চাওয়া হওয়ায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “কেউ বিচলিত হবেন না। আমাদের কর্মীরা প্রত্যেকের বাড়িতে যাবেন। যাঁরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের হয়ে আমাদের লোকেরাই ফর্ম পূরণ করে আনবেন। আমরা চাই, প্রকৃত প্রাপকেরা যেন এই সুবিধা পান এবং কোনও অননুমোদিত ব্যক্তি যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না নিতে পারেন।”

বর্তমানে আবেদনপত্র অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিডিও অফিস, জেলা প্রশাসনিক ভবন, পুরসভা এবং ওয়ার্ড অফিস থেকেও ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিন ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য আপাতত ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিলে পরবর্তী পর্যায়ে সুবিধা পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

first installment of Annapurna Yojana only if you fulfill these conditions

আরও পড়ুন :BJP-র সংগঠন মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ! মেগা বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ নীতিন নবীনের

জানা গেছে, যাঁরা ২ জুনের মধ্যে আবেদন জমা দেবেন এবং যাঁদের নথিতে কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়বে না, তাঁদেরই জুন মাসে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানো হবে। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা হবে। অন্যদিকে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বর্তমান উপভোক্তারা নিয়মমাফিক চলতি মাসের কিস্তিও পাবেন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও আবেদনকারী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকবে।