বাংলাহান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে বাড়ি ফেরার বা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এবার পকেটের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। কারণ, একদিকে যেমন বিমান জ্বালানি অর্থাৎ এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF (ATF Price Hike)-এর দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে, তেমনই দাম বেড়েছে বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারেরও। জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন খরচে। ফলে সেই বাড়তি খরচের একটা অংশ বিমান ভাড়ার মাধ্যমে যাত্রীদের উপর চাপানোর সম্ভাবনাও থাকে। উৎসবের মরসুমে যখন বিমানযাত্রীর সংখ্যা এমনিতেই বাড়ে, তখন জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি বিমানযাত্রার খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
লিটার প্রতি ১৬ টাকা বাড়ল ATF (ATF Price Hike)-এর দাম!
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির প্রকাশিত দামের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য ATF- (ATF Price Hike) এর দাম লিটারে ১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১২১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৩৭ টাকা। শুধু এক মাসের পরিবর্তন নয়, গত তিন মাস ধরেই জেট ফুয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। সেপ্টেম্বর মাসে লিটারে ৬.২৮ টাকা বা ৫.৪৬ শতাংশ দাম বেড়েছিল। তার আগে আগস্টেও লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে মোট বৃদ্ধি ২৭ টাকারও বেশি, যা প্রায় ২৫ শতাংশের কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামাকেই এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলির কাছে জ্বালানি বরাবরই অন্যতম বড় খরচের জায়গা। একটি বিমান পরিচালনার মোট ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ATF-এর পিছনে যেতে পারে। তাই জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধুমাত্র সংস্থার হিসাবেই আটকে থাকে না। পরিচালন ব্যয় সামলাতে বিমান সংস্থাগুলি অনেক সময় টিকিটের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটে। ফলে আগামী দিনে বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে বিমান ভাড়ায় তার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কোন সংস্থা কতটা ভাড়া বাড়াবে, সেটি তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
শুধু বিমান জ্বালানি নয়, বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬২.৫৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে ১৮৩.৫০ টাকা এবং আগস্টে ১৯২ টাকা করে দাম কমেছিল। সেই ধারাবাহিকতার পর সেপ্টেম্বরে ফের ৯.৫০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বাণিজ্যিক LPG-র দাম মোট ১,৩৭৩ টাকা বেড়ে ১,৭৪০.৫০ টাকা থেকে ৩,১১৩.৫০ টাকায় পৌঁছেছিল। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের কারণে জুলাই ও আগস্টে দাম কমানো হয়। এবার ফের দাম বাড়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের খরচে তার প্রভাব পড়তে পারে।

তবে সাধারণ পরিবারের রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে কোনও নতুন দাম বাড়ানো হয়নি। ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকাতেই রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব অবশ্য মার্চ থেকে জুনের মধ্যে গার্হস্থ্য LPG-র দামেও পড়েছিল, ওই সময়ে সিলিন্ডার পিছু মোট ৮৯ টাকা দাম বেড়েছিল। ATF (ATF Price Hike) এবং LPG-র দাম সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক মূল্য এবং রুপি-ডলার বিনিময় হারের গতিবিধির উপর নির্ভর করে প্রতি মাসের শুরুতে সংশোধন করা হয়। রাজ্যভেদে VAT-সহ স্থানীয় করের কারণে চূড়ান্ত দামেও পার্থক্য থাকে। অন্যদিকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে; মে মাসে লিটারে প্রায় ৭.৫০ টাকা বৃদ্ধির পর নতুন করে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।













