বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে গভীর অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। জ্বালানি সঙ্কটের পর এবার আর্থিক সঙ্কটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি, গ্যাস ও সারের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ঋণের সন্ধান শুরু করেছে সে দেশের সরকার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমান।
জ্বালানি সঙ্কটের পর এবার আর্থিক সঙ্কটে বাংলাদেশ (Bangladesh):
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবং ভর্তুকির চাপ সামলাতে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই বিপুল অর্থের জোগান দিতে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অর্থ মন্ত্রক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়ে সম্ভাব্য ঋণের উৎস খোঁজার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর কাছ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা চাওয়ার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: পারফেক্ট ঝরঝরে ভাতের সিক্রেট ফাঁস! সরু চালে এই ৫ টিপসেই মিলবে সেরা ফল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দাম বাড়ছে এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ তার সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে। জ্বালানি ও সার আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নতুন নয়। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাতের শুরুর পরেও একই ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তখন অতিরিক্ত দামে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার দ্রুত কমে যায়। একসময় যেখানে রিজার্ভ ছিল প্রায় ৪৮০০ কোটি ডলার, তা নেমে আসে ২০০০ কোটি ডলারের নিচে। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় বাংলাদেশি টাকার মান কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: নীতীশ যুগের অবসান, শপথ নিলেন বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী
বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সেই চাপ ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে (Bangladesh) জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের দাম ইতিমধ্যেই একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা বাড়ছে। এই অবস্থায় দ্রুত আন্তর্জাতিক ঋণ না পেলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।












