বাংলা হান্ট ডেস্ক: ১৬৫ বছরের পুরনো প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমেরিকার মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এবার থেকে মার্কিন ডলার বিলে থাকবে প্রেসিডেন্টের সই। এতদিন ধরে মার্কিন নোটে শুধুমাত্র ট্রেজারার এবং অর্থসচিবের স্বাক্ষরই থাকত। সেই প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনও প্রেসিডেন্ট নিজেই জায়গা করে নিলেন ডলার বিলে।
এখন থেকে মার্কিন ডলারে থাকবে ট্রাম্পের (Donald Trump) সই
মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ দেশের শক্তি, ঐতিহ্য এবং নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে। চলতি বছরের ৪ জুলাই ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ডলার বিলে এই পরিবর্তনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাধীনতার বহু বছর পর ডলার ছাপার প্রথা শুরু হলেও গত দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে একই নিয়ম বহাল ছিল।
আরও পড়ুন: দেশে বড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল নিরাপত্তা বাহিনী, আইএস-আল কায়দা যোগে গ্রেপ্তার ১২ জন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডলার বিলে প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি রাজস্ব সচিবের স্বাক্ষর থাকবে। মার্কিন অর্থ দপ্তরের তরফে অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, দেশের ঐতিহাসিক সাফল্য ও বর্তমান নেতৃত্বের অবদানকে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি নতুন নোট চালুর জন্য একেবারে উপযুক্ত সময় এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার ভাবমূর্তিকেও আরও শক্তিশালী করা যাবে।
যদিও এখনও পর্যন্ত এই পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি ট্রাম্প, তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জুন মাস থেকেই তাঁর সই-সহ নতুন নোট ছাপা শুরু হবে। জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ১০০ ডলারের নোট বাজারে আনা হবে বলে। পাশাপাশি স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি খচিত ২৪ ক্যারাট সোনার বিশেষ স্মারক মুদ্রাও তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি বাঁচাতে দেশজুড়ে ফের লকডাউন? জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
উল্লেখ্য, এতদিন মার্কিন ডলার বিলে সাবেক অর্থসচিব জেনেট ইয়ালেন এবং ট্রেজারারের সই থাকত। এই পরিবর্তনের ফলে ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচর স্বাক্ষর আর ডলার বিলে থাকছে না। ফলে ট্রাম্পের (Donald Trump) এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে আমেরিকার মুদ্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।












