বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্র উত্তাপের মধ্যেই উলট-পুরাণ সোনার (Gold Price) বাজারে। সাধারণত, এরকম অস্থিরতার সময় সোনার দাম বাড়ে, কিন্তু এ বার তা না হয়ে বরং দাম কমতে শুরু করেছে। ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ৬ মার্চ ২৪ ক্যারেট অর্থাৎ ৯৯৯ বিশুদ্ধ সোনার দাম কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৯,৪০৫ টাকায় নেমেছে। আগের দিনের জিএসটি ছাড়া বন্ধের দামের তুলনায় এটি ১,৩৭৭ টাকা কম। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সোনার বাজারে স্পষ্ট পতনের ইঙ্গিত মিলছে।
যুদ্ধের আগুনেও হু হু করে দাম কমছে সোনার (Gold Price)!
এই দামের হিসাব অনুযায়ী সোনা এখন তার সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর থেকে অনেকটাই নিচে অবস্থান করছে। এক সময় ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৭৬,১২১ টাকার রেকর্ড ছুঁয়েছিল। বর্তমানে সেই রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় ১৬,৭১২ টাকা কম। জিএসটি যোগ করলে ২৪ ক্যারেট সোনার বর্তমান দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১,৬৪,১৯১ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম জিএসটি সহ প্রায় ১,৫০,৩৯৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১,২৩,১৩৪ টাকায় দাঁড়াচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: আসামে সুখোই-৩০ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২ পাইলট! শোকপ্রকাশ ভারতীয় বায়ুসেনার
উল্লেখ্য, আইবিজেএ প্রতিদিন দু’বার সোনার দাম প্রকাশ করে। প্রথমবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয়বার বিকেল ৫টার দিকে এই বাজারদর জানানো হয়। আজ যে দাম প্রকাশ করা হয়েছে তা দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের হিসাব অনুযায়ী। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির থাকলেও গত কয়েক দিনে বাজারে সোনার দামে ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে শুধু সোনাই নয়, রূপার বাজারেও সেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত তিন দিনে রূপার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতি কেজি রূপার দাম প্রায় ২৬,৫৩৮ টাকা কমেছে। শুক্রবার সকালে রূপার দাম প্রতি কেজিতে ২,৬৩,৩১০ টাকায় খোলে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯১০ টাকা কম। একই সময়ে সোনার দামও গত তিন দিনে প্রতি ১০ গ্রামে মোট ৮,০৬৪ টাকা কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতাই এই পতনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: BLO-দের জন্য বড় ঘোষণা! নির্বাচনের কাজের ৬০০০ টাকা ঢুকছে ব্যাঙ্কে, জানুন কারা পাবেন
কিন্তু সারা দেশে সোনার বেসিক মূল্য প্রায় একই থাকলেও চূড়ান্ত খুচরো দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। জিএসটি সব জায়গায় সমান হলেও রাজ্যভেদে স্থানীয় কর, হ্যান্ডলিং চার্জ এবং পরিবহনের খরচের কারণে দামের সামান্য পরিবর্তন হয়। পাশাপাশি উৎসব বা বিয়ের মরশুমে চাহিদা বেশি থাকলেও নির্দিষ্ট শহরে দাম কিছুটা বাড়তেও পারে। এর সঙ্গে জুয়েলার্সদের নিজস্ব মার্জিন ও গয়না তৈরির খরচও যুক্ত হয়। ফলে ক্রেতারা যে শহরে সোনা কিনছেন, সেই অনুযায়ী বাজারদরে সামান্য ওঠানামা দেখা যেতে পারে।












