বাংলাহান্ট ডেস্ক: অসমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখোই–৩০ এমকেআই। প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় কার্বি আংলং জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় দুই বায়ুসেনা আধিকারিক—স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকরের। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক গোলযোগ নাকি অন্য কোনও কারণ! ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।
আসামে সুখোই-৩০ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২ বায়ুসেনা (Indian Air Force)!
বায়ুসেনা সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অসমের জোড়হাট এয়ারবেস থেকে প্রশিক্ষণ উড়ানে অংশ নিয়েছিল সুখোই–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানটি। উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বিমানের সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শেষবারের মতো বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এরপরই সেটি রাডার থেকে পুরোপুরি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে খোঁজ শুরু হলে জানা যায়, জোড়হাট থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরে কার্বি আংলং জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়েছে বিমানটি।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি ইউনিটে বড় পরিবর্তনের দাবি! ৩ না ৫, কোন হিসেবেই বাড়বে কর্মীদের বেতন?
স্থানীয় বাসিন্দা সূ্ত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যার অন্ধকার নামার পর হঠাৎই নীলিপ ব্লকের কাছে একটি পাহাড়ি এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথমে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। জায়গাটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দলকেও পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায় এবং ঘটনাস্থলের অদূরেই দুই বায়ুসেনা আধিকারিকের দেহ উদ্ধার করা হয়।
IAF acknowledges the loss of Sqn Ldr Anuj and Flt Lt Purvesh Duragkar, who sustained fatal injuries in the Su-30 crash. All personnel of the IAF express sincere condolences and stand firmly with the bereaved family in this time of grief: Indian Air Force pic.twitter.com/PODgDwPprS
— ANI (@ANI) March 6, 2026
রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি সুখোই–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ভারতের বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান শক্তি। এই অত্যাধুনিক দ্বি-আসনবিশিষ্ট টুইনজেট ফাইটার বিমান আকাশযুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর বলে পরিচিত। ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) সংস্থা দেশেই এই যুদ্ধবিমান উৎপাদন করে। দীর্ঘ পাল্লার অস্ত্র এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম হওয়ায় এই যুদ্ধবিমানকে বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী বন্ধ হতেই ঘুম উড়ল পাকিস্তানের! জ্বালানি সঙ্কটে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ
তবে বিগত কয়েক বছরে বহুবার সুখোই–৩০ এমকেআই দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই সামরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি কোর্ট অফ ইনকোয়ারিও গঠন করা হয়েছে বলে বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো দুই বীর অফিসারের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন বহু সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তারাও।












