বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে। নতুন বেতন কাঠামো কেমন হবে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত বাড়বে এই সব প্রশ্নই এখন ঘুরছে কর্মচারীদের মধ্যে। এর মধ্যেই কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফে একটি নতুন দাবি সামনে এসেছে। তাদের বক্তব্য, যদি ফ্যামিলি ইউনিট বা পারিবারিক এককের সংজ্ঞা বদলানো হয়, তাহলে সরকারি কর্মীদের বেতনের হিসেবই বদলে যেতে পারে।
পে কমিশনে (8th Pay Commission) ফ্যামিলি ইউনিট বিষয়টা আসলে কী?
সরকারি কর্মীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফ্যামিলি ইউনিট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের (AIDEF) সাধারণ সম্পাদক সি শ্রীকুমার জানিয়েছেন, ১৯৫৭ সালে ১৫তম ইন্ডিয়ান লেবার কনফারেন্সে বেতনের মান নির্ধারণ করার সময় একটি কাল্পনিক তিন সদস্যের পরিবারকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছিল। এই হিসেব অনুযায়ী পরিবারে ধরা হয় স্বামী, স্ত্রী ও দুই সন্তান। সেই সময় থেকে বিভিন্ন পে কমিশনে এই তিন ইউনিটের খরচ ধরেই ন্যূনতম বেতন বা বেসিক পে নির্ধারণ করা হয়।
কেন ৩ থেকে ৫ সদস্য করার দাবি উঠছে?
এবার কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান সময়ের সামাজিক ও আইনি পরিস্থিতিতে পুরোনো এই নিয়ম আর বাস্তবসম্মত নয়। তাই ফ্যামিলি ইউনিট বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এই দাবির পক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
১. আইনি বাধ্যবাধকতা : ২০০৭ সালের Maintenance and Welfare of Parents and Senior Citizens Act অনুযায়ী, বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা সন্তানের আইনি দায়িত্ব। সেই কারণে অনেকের মতে, বাবা-মাকেও পরিবারের অংশ ধরে বেতনের হিসেব করা উচিত।
২. নিউক্লিয়ার পরিবারেও নির্ভরতা : অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি মনজিৎ সিং প্যাটেল বলেছেন, এখন অনেক পরিবার নিউক্লিয়ার হলেও বয়স্ক বাবা-মায়ের দায়িত্ব সন্তানদের ওপরই থাকে। তাই খরচের হিসেবের মধ্যে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
বেতন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে কী প্রভাব পড়তে পারে?
যদি ফ্যামিলি ইউনিট ৩ থেকে ৫ সদস্যে বাড়ানো হয়, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি বেসিক বেতনে পড়তে পারে। মনজিৎ সিং প্যাটেলের হিসাব অনুযায়ী –
- ১টি ইউনিট = ৩৩.৩৩% খরচ
- অতিরিক্ত ২টি ইউনিট (বাবা ও মা) = প্রায় ৬৬%
অর্থাৎ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের সঙ্গে অতিরিক্ত ০.৬৬ যোগ হতে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কি ৩ ছাড়াতে পারে?
বর্তমানে সপ্তম পে কমিশনের আওতায় বেসিক বেতন এবং ডিএ বৃদ্ধির হিসেব ধরলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নাগাদ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রায় ১.৭৬ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদি এর সঙ্গে ফ্যামিলি ইউনিট বৃদ্ধির প্রভাব যোগ হয়, তাহলে সমীকরণ দাঁড়াতে পারে –
- সাধারণ ফ্যাক্টর: ১.৭৬
- ফ্যামিলি ইউনিট বৃদ্ধির প্রভাব: + ০.৬৬
- মোট: ২.৪২

আরও পড়ুনঃ যুবসাথীর টাকা কবে মিলবে? ১ এপ্রিলের আগে শেষ করতে হবে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ, নতুন নির্দেশিকা জারি
এর সঙ্গে যদি পে কমিশনের স্বাভাবিক গ্রোথ ফ্যাক্টর ধরা হয়, যেমন সপ্তম পে কমিশনে প্রায় ১৫% বৃদ্ধি দেওয়া হয়েছিল, তাহলে হিসাব আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩.০৯। সব মিলিয়ে কর্মচারী সংগঠনগুলির এই প্রস্তাব (8th Pay Commission) কার্যকর হলে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার এই দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












