মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানির জ্বালায় ভুগছে পাকিস্তান (Pakistan)। এই পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে। কারণ যুদ্ধের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানে। ইতিমধ্যেই তেল আমদানির অন্যতম প্রধান রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা ভাবতে শুরু করেছে শাহবাজ শরিফের সরকার।
জ্বালানি সংকটে ভুগছে পাকিস্তান (Pakistan)
জানা গিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পাকিস্তানে ফের কোভিড-পর্বের মতো কিছু ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের বহু কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি স্কুল-কলেজেও অনলাইন পঠনপাঠন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানির ব্যবহার কমানো যাবে, তেমনই পরিবহণ খাতে চাপও কমবে বলে মনে করছে সরকার।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের মধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি! কাদের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালী? রাখঢাক না রেখে জানিয়ে দিল ইরান
পাকিস্তানের অর্থনীতি আগে থেকেই চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত দেশের আর্থিক পরিস্থিতি বহুদিন ধরেই নড়বড়ে। তার উপর যদি দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তবে পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ এই জলপথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং জ্বালানি আমদানি করে দেশটি। ফলে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে দেশের অর্থনীতিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বেশ কিছু বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরে সীমিত সংখ্যক কর্মীকে অফিসে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বাকিদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হবে। বিশেষ করে আইটি খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন অনলাইনে কাজ করার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:যুদ্ধের আবহে ১৬ লক্ষ কোটি টাকার মোক্ষম ঝটকা খেলেন ট্রাম্প! এবার কী করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
এদিকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেব জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের হাতে সীমিত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে প্রায় ২৫ দিনের পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১০ দিনের জন্য এবং এলপিজি মজুত রয়েছে প্রায় ১৫ দিনের। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেই এখন জোর দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।












