বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান (Iran)। যতদিন যুদ্ধ চলবে, ততদিন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য নয় বলেও স্পষ্ট করেছে তারা। ইরানের সংবাদমাধ্যমে এই বার্তা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কাদের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালী, জানিয়ে দিল ইরান (Iran)
ইরানের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পুরোপুরি অধিকার তাদের রয়েছে। সেই যুক্তি দেখিয়েই জানানো হয়েছে, আমেরিকা, ইজরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের মিত্র দেশগুলির কোনও জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না। আইআরজিসি তরফ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে আরও জানানো হয়েছে যে, ওই দেশগুলির কোনও জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালীর কাছে দেখা যায়, তবে তার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: একটি ধাক্কাই বদলে দিল জীবন! বিনা কোচিংয়ে ১২০ দিনের প্রস্তুতিতে IAS হলেন তরুণী, চমকে দেবে কাহিনি
বিশ্বের তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে ইরানের এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগেই ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে শুধুমাত্র চিনের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকেই হরমুজ় প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। চলমান সংঘাতে বেজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসাও করেছিল তেহরান। সেই ইঙ্গিতের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল ইরান।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা-ডিজিটাল-সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে আরও শক্তিশালী হবে ভারত! সাহায্য করবে এই দেশ
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইতিমধ্যেই ওই পথে বহু পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলি। নতুন এই সতর্কবার্তার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির উপরও।












