বন্যাবিধ্বস্ত আসামে ২১ কোটির অনুদান নীতা আম্বানির! গৌতম আদানি করলেন ১১ কোটির সাহায্য

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অসমে (Assam Flood) এবারের বন্যা ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও, ২০২৬ সালের পরিস্থিতি আগের বহু বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যাজনিত ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫। শুধু রবিবারই শিবসাগর জেলায় আরও তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যদিও জল কিছুটা নামতে শুরু করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে, তবুও এখনও প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার মানুষ দুর্যোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ৭৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরকদমে চলছে।

বন্যাবিধ্বস্ত আসামে (Assam Flood) কোটি টাকার অনুদান নীতা আম্বানি ও গৌতম আদানির

এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও সমাজসেবামূলক সংস্থা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের (Reliance Foundation) চেয়ারপার্সন নীতা আম্বানি (Nita Ambani) অসমের বন্যাত্রাণের জন্য ২১ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যমে এই সহায়তার কথা জানিয়ে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, অসম যখনই বড় কোনও সংকটের মুখে পড়েছে, তখনই নীতা আম্বানি এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারীর সময়ও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই আর্থিক সহায়তা বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। শুধু অর্থসাহায্যই নয়, রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের দল ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকায় খাদ্য, জনস্বাস্থ্য পরিষেবা, জরুরি আশ্রয় এবং গবাদি পশুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে (Assam Flood)।

আরও পড়ুন: সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে পাকিস্তান! মোতায়েন ২৫০ চিনা হাউইৎজার, কী পরিকল্পনা পড়শি দেশের?

রিলায়েন্সের পাশাপাশি আদানি গোষ্ঠীও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সহায়তার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই অর্থ রাজ্যের চলমান বন্যা মোকাবিলা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আদানি ফাউন্ডেশন, আদানি স্মার্ট মিটার এবং গুয়াহাটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে উচ্চ অসমে বিশেষ ত্রাণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় শিবসাগরের নাজিরা মহকুমা এবং ধেমাজি জেলার শিলাপাথর এলাকায় প্রায় ৮ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্গত পরিবারগুলির হাতে খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত উপকরণ তুলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপে জরুরি প্রয়োজনগুলি মেটাতে পারেন। নাজিরা মহকুমার গুরমুর মিরি (নেপালি বস্তি), সান্তাক গ্রান্ট, বালিগাঁও, রোজাপুল দুয়ারা গাঁও, বামুনপুখুরি, গোহাইন গাঁও, হুলাং কাটোনি, হুলাং কলিতা, বেংমোরা কোঁয়ার গাঁও, বাইলুং গাঁও, মিরি গাঁও, ঔগুরিজান, বিহুবর গ্রান্ট-সহ মোট ১৪টি গ্রাম এবং শিলাপাথরের একাধিক বন্যাকবলিত এলাকায় এই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষভাবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সবচেয়ে বিপন্ন পরিবারগুলিও দ্রুত সহায়তা পায়।

Nita Ambani and Gautam Adani donate crores to Assam Flood affected

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে শান্তি মিছিলে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ! মৃত্যু কমপক্ষে ১৪ জনের

অসমের (Assam Flood) চলমান বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রশাসন একদিকে যেমন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে, তেমনই পুনর্বাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তৈরি করছে। আদানি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বর্তমান ত্রাণ কার্যক্রম কেবল প্রথম ধাপ। আগামী দিনেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, জীবিকা পুনর্গঠন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা কাজ চালিয়ে যাবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কর্পোরেট সংস্থাগুলির এই সহযোগিতা বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে বড় স্বস্তি হয়ে উঠেছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করছে বৃষ্টি, নদীর জলস্তর এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির অগ্রগতির উপর। আপাতত রাজ্যজুড়ে প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থা একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।