একটি ধাক্কাই বদলে দিল জীবন! বিনা কোচিংয়ে ১২০ দিনের প্রস্তুতিতে IAS হলেন তরুণী, চমকে দেবে কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া এক তরুণীর জীবনের সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। পশ্চিমবঙ্গের চিত্তরঞ্জনে জন্ম হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে ঝাড়খণ্ডের জামতারায়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুবই মেধাবী ছিলেন তরুণী পান্ডে। পরিবারের সীমিত আর্থিক অবস্থার মধ্যে থেকেও তিনি নিজের পড়শোনা চালিয়ে গেছেন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করলেও পরে আর্থিক সমস্যার কারণে জামতারার একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য থেকে এক চুলও সরে যাননি তিনি।

তরুণী পান্ডের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

ছোটবেলা থেকেই তরুণীর ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর সেই স্বপ্নের দিকেই এগিয়ে যান তরুণী পান্ডে। সিকিমের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনাও শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। এমবিবিএসের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত মাঝপথেই মেডিকেল পড়াশোনা ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। জীবনের সেই সময়টা তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত কঠিন ও অনিশ্চয়তায় ভরা।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে আচমকাই পদত্যাগ সিভি আনন্দ বোসের! অস্থায়ী রাজ্যপাল হচ্ছেন আরএন রবি

মেডিকেল পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তরুণী পান্ডে। তবে তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। নতুন করে পড়াশোনায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি বা আইজিএনইউ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন। ধীরে ধীরে আবার নিজের জীবনকে গুছিয়ে নিতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় এখনও আসেনি।

২০১৬ সালে পরিবারের উপর নেমে আসে বড় আঘাত। তাঁর বড় বোনের স্বামী, যিনি সিআরপিএফে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদে কর্মরত ছিলেন, শ্রীনগরে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। এই ঘটনায় গোটা পরিবার ভেঙে পড়ে। সেই সময় বোনের বিভিন্ন সরকারি কাজের সূত্রে বহু প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয় তরুণীর। সেখান থেকেই তিনি প্রথম কাছ থেকে একজন আইএএস আধিকারিকের দায়িত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারেন। তখনই তাঁর মনে নতুন স্বপ্নের জন্ম হয়—সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহে ১৬ লক্ষ কোটি টাকার মোক্ষম ঝটকা খেলেন ট্রাম্প! এবার কী করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

এরপর শুরু হয় আরও কঠোর প্রস্তুতি। জীবনে কখনও কোচিং না নেওয়া তরুণী পান্ডে আত্মবিশ্বাস রেখেছিলেন নিজের উপরই। ইউটিউব ভিডিও, বিভিন্ন বই এবং নিজের তৈরি নোটের সাহায্যে নিজেই পড়াশোনা করে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি। বয়সসীমার কারণে এটি ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ সুযোগ। মাত্র প্রায় ১২০ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ২০২১ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন তিনি। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রথম প্রচেষ্টাতেই তিনি অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। সর্বভারতীয় তালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করে আইএএস ক্যাডার পান তরুণী পান্ডে। সংগ্রাম, সাহস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এই কাহিনি আজ বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।