যুদ্ধের আবহে ১৬ লক্ষ কোটি টাকার মোক্ষম ঝটকা খেলেন ট্রাম্প! এবার কী করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আরোপিত আমদানি শুল্ক নিয়ে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতিই সেই শুল্ককে ‘অসাংবিধানিক’ বলে খারিজ করার পর আবারও নতুন এক ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত জানিয়েছে, যেসব আমদানিকৃত সংস্থা ওই শুল্ক পরিশোধ করেছিল, তারা এখন সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকারী। আর আদালতের এই নির্দেশের ফলেই মার্কিন সরকারের উপর বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

শুল্ক আরোপ নিয়ে ফের আদালতে ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প (Donald Trump):

বুধবার স্থানীয় সময়ে মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের বিচারক রিচার্ড ইটন বলেন, “রেকর্ডে থাকা সমস্ত আমদানিকারকই সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।” মূলত ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএ-র ভিত্তিতেই আদালতোর তরফে এই রায় দেওয়া হয়। এই আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন যে পরিমাণ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিল, যা পরে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ে সেই শুল্ক আদায়ের পদ্ধতি কোনওভাবেই আইনসম্মত ছিল না।

আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! T20 বিশ্বকাপে মহিলা কর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার পাক খেলোয়াড়ের, জানাজানি হতেই…

গত ফেব্রুয়ারিতে মাসেই মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে একজন প্রেসিডেন্টের কখনই একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই। কারণ কর আরোপের ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের হাতে। তবে আদালতের সেই রায়ে কীভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ কোনও ছিল না। বিচারক ইটন জানিয়েছেন, আইইইপিএ-অনুযায়ী শুল্ক ফেরত সংক্রান্ত সব মামলাই তাঁর আদালতে শোনা হবে, যাতে রিফান্ড প্রক্রিয়া একসঙ্গে পরিচালিত করা যায়।

টেনেসির ন্যাশভিল-ভিত্তিক সংস্থা অ্যাটমাস ফিলট্রেশন টেকনোলজিসর তরফে এই বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়।প্রথম ওই সংস্থার তরফেই দাবি তোলা হয় যে তারা যে শুল্ক দিয়েছে তা ফেরত পাওয়ার অধিকারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বিতর্কিত শুল্ক আরোপ করে মার্কিন সরকার ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আদায় করেছিল। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,আদালতের এই রায়ের ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রিফান্ড দিতে হতে পারে সরকারের।

Donald Trump faces setbacks over tariffs again

আরও পড়ুন: চলন্ত ট্রেনে প্রসববেদনা, তারপর যা ঘটল… মানবিকতার নজির গড়ল ভারতীয় রেল

প্রসঙ্গত, মার্কিন কাস্টমস এবং সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের ওপরই এই আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ ও চূড়ান্ত হিসাবের দায়িত্ব থাকে। তাই আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে “লিকুইডেশন” বা শুল্ক চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা চালানের ক্ষেত্রে আইইইপিএ শুল্ক আদায় বন্ধ করতে হবে এবং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া হিসাবও নতুন করে গণনা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা সহজ হবে না, কারণ বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো মূলত সীমিত সংখ্যক রিফান্ডের জন্যই তৈরি। ফলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রশাসন বেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।