বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোট গ্রহণ পর্বের শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এসআইআর সংশোধন থেকে ভোটের গণনা-সরকারি কর্মীদের (Government Employees) জন্য সামান্য অবহেলাও নজর এড়ায়নি কমিশনের। এবার গণনার আগে সরকারি কর্মীদের জন্য ফের স্পষ্ট বার্তা— দায়িত্বে ফাঁক থাকলে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, চাকরিও খোয়া যেতে পারে।
সরকারি কর্মীদের (Government Employees) সতর্ক করল কমিশন
পূর্বের কিছু ঘটনার ভিত্তিতে, সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভোটের সময় ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কাজে ত্রুটি ধরা পড়েছিল। সেই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন রিপোর্টে। ফলে গণনার দিন কোনওরকম গাফিলতি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
গণনাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রবেশের সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি টেবিলে গণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে অন্তত একজন সুপারভাইজার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদগুলিতে মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মীদের নিযুক্ত করা হবে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে ফোন নম্বর, গোপন রাখা হবে।
অন্যদিকে, গণনাকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। কাউন্টিংয়ে সুপারভাইজার হিসেবে কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিযুক্ত করা হবে- এই নির্দেশিকা ঘিরেই আপত্তি তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল, তবে সেখানে স্বস্তি মেলেনি। পরে সুপ্রিম কোর্টেও একই মামলায় ধাক্কা খেতে হয়।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারি কর্মীও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী থাকবেন। এতে কোনও নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।” এর উত্তরে তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “না না এমনটা হতে পারে না।” বিচারপতি তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন, “কেন হতে পারে না?”

আরও পড়ুন : ভোট গণনা নিয়ে সতর্ক তৃণমূল, মমতা-অভিষেক তরফে এল কড়া নির্দেশ
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ হয়নি। ভোট গণনার দিন যাতে কোনওরকম বিতর্ক বা বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, সে জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্ভুল ফল প্রকাশই এখন প্রধান লক্ষ্য।













