বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান (Iran)-আমেরিকা (America) সংঘাতের আবহে আরও কড়া বার্তা দিলেন ইরানের সেনাপ্রধান। মার্কিন সেনাকে হত্যা অথবা জীবিত অবস্থায় ধরে ইরানের হাতে তুলে দিতে পারলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার। কোনও ইরানি মহিলা এই কাজ করলে পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে ৬০ হাজার ডলার হবে। রবিবার ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি (Major General Amir Hatami) এই ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে উদ্ধৃত করে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা জীবিত ধরলেই মিলবে মোটা টাকা পুরস্কার, ঘোষণা ইরানের (Iran):
হাতামির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের (Iran) সাধারণ মানুষের একাংশ আমেরিকান সেনাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের সেই আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পুরস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ঘোষণাটি এমন সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ভূখণ্ডে বর্তমানে বড় কোনও মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন নেই। ফলে বাস্তবে এই পুরস্কার কী ভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: ‘ইউজিসি নেট’-এর প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটি! ৩ টি বিষয়ে হবে পুনঃপরীক্ষা, জারি নির্দেশিকা
শুধু নগদ পুরস্কারেই বিষয়টি থামছে না। হাতামি জানিয়েছেন, কোনও মার্কিন সেনাকে হত্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অস্ত্রের বাজারমূল্যের দ্বিগুণ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন অস্ত্রও দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে সামরিক জাদুঘরে যুদ্ধের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। ইরানের সেনাপ্রধানের এই ঘোষণা যে কেবল আর্থিক পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের আবহে একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করছে, তা স্পষ্ট।
এর পাশাপাশি আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি নিয়েও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাতামি। তাঁর দাবি, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর থাকার কোনও অধিকার নেই। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই কৌশলগত জলপথে নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ফলে হাতামির বক্তব্যকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নারীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা! মঙ্গলবার থেকে রাস্তায় নামছে পিংক বাস, কোথায়?
তবে এই ঘোষণার বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ বা তাঁদের ধরে ইরানের (Iran) হাতে তুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি কোথায় এবং কী ভাবে তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে হাতামি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পুরস্কার ঘোষণা সংঘাতের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং ইরান-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে তেহরানের দিক থেকে এটি আমেরিকাকে পশ্চিম এশিয়া থেকে সরে যাওয়ার জন্য দেওয়া আরও একটি কঠোর রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।













