বাংলা হান্ট ডেস্ক : পার্টি অফিস থেকে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Asish Banerjee) দেহ উদ্ধার সঙ্গে তাঁর রেখে যাওয়া সুইসাইড নোট ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা নোটের শেষে থাকলেও, দলের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের প্রসঙ্গ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে কী বললেন ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee)?
আশিসের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁর পরিচিত মহল ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে তিনি কী অবস্থার মধ্যে ছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে ঋতব্রত জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিনও আশিসের সঙ্গে তাঁর ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল। শেষবার কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেটিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
ঋতব্রত বলেন, ‘মোবাইলটা বের করে দেখছিলাম, শুক্রবার আশিসদার সঙ্গে একাধিকবার কথা হয় আমার। প্রথমবার সেদিন সকাল ১০টা ১২ মিনিটে। তারপর ৩টে ১০ মিনিটে ওঁর কল মিস করি। আমি কল ব্যাক করি ৩টে ৫৭ মিনিটে। প্রায় ১২ মিনিট কথা হয় ওঁর সঙ্গে। তিনি বারবার জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর ৩ জন সহায়কের চাকরিটা স্থায়ী হওয়ার কোনও বন্দোবস্ত হয়েছে কি না। সেই শেষ ওঁর সঙ্গে কথা হয়। ওঁর মৃত্যুর খবর অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।’
সুইসাইড নোটের বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান ঋতব্রত। তাঁর দাবি, নোটের ভাষা ও সেখানে উঠে আসা বক্তব্যে এমন কিছু দিক রয়েছে, যা আলাদা করে নজর কাড়ে। ঋতব্রত বলেন, ‘মুক্তর মতো হাতের লেখা ওঁর। উনি একটা জায়গায় উল্লেখ করেছেন, সর্বদা সব দলীয় অন্যায় মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। শুধু আশিসদা নয়, আমাদেরও পরিস্থিতি ছিল না। অনুব্রত মণ্ড, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, আখরুজ্জামান, শতাব্দী, ঋজু দত্ত, অশিত মাল, আমাদের কারওই পরিস্থিতি ছিল না প্রতিবাদ করার।’
ঋতব্রতের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আশিসের আলোচনায় দলের বিষয়ই প্রাধান্য পেত। গত এক বছরে তিনি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যতটা না কথা বলেছেন, তার তুলনায় সংগঠন ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বেশি আলোচনা করেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন ও বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই সময় আশিসও বিদ্রোহী শিবিরে চলে গিয়েছিলেন বলে জানান ঋতব্রত।
আশিসের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির কথাও তুলে ধরেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বজন শ্রদ্বেয় নিপাট ভদ্রলোক ছিলেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে হারার পর তো তাঁর অ্যাকাউন্টে ৩৬০ কোটি ঢোকেনি।’ ঋতব্রতর দাবি, কোনও সংগঠিত চাপ বা প্রভাবের কারণে আশিসকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ঋতব্রতের বক্তব্য, ‘এটা আত্মহত্যা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক খুন। CID-র কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাব।’

আরও পড়ুন : বিদেশযাত্রার আগেই বিপাকে অভিষেক! ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় হাইকোর্টে তৃণমূল সাংসদ
উল্লেখ্য, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। সুইসাইড নোটে থাকা বক্তব্য, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে হওয়া কথাবার্তা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সব দিকই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আশিসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে অন্য কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত জানা সম্ভব নয়।













