নীল-সাদা সরিয়ে বসল গেরুয়া বোর্ড! নতুন আঙ্গিকে খুলছে তৃণমূল আমলে তৈরি বিশ্ববাংলা শিল্পী হাট

Published on:

Published on:

Government of West Bengal changes Biswa Bangla Shilpi Haat name and board colour

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পর বহু জায়গা থেকে মুছেছে নীল-সাদা রং। তৃণমূল আমলের নীল-সাদার উপর পড়েছে গেরুয়া প্রলেপ। পাশাপাশি অনেক জায়গা থেকে বিশ্ববাংলার লোগোও বাদ পড়েছে। এবার তৃণমূল আমলে শান্তিনিকেতনের প্রান্তিকে তৈরি বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের (Biswa Bangla Shilpi Haat) নাম বদলে গেল। নতুন নাম রাখা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট। পাশাপাশি শিল্পীদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে একাধিক পরিকল্পনাও করেছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)।

বিশ্ববাংলা শিল্পী হাট নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা রাজ্যের | (Biswa Bangla Shilpi Haat)

তৃণমূল আমলে ২০১৪ সালে প্রান্তিকের এই হাটের উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হস্তশিল্পীদের জন্য তৈরি এই হাটে আধুনিক বৈদ্যুতিক আলো, দূরদূরান্ত থেকে আসা শিল্পীদের থাকার জন্য আবাসনের বন্দোবস্ত রয়েছে। এখানে স্থায়ীভাবে প্রায় ১৩০ জন শিল্পী বসে তাঁদের সামগ্রী বিক্রি করতে পারেন। হাটের সামনের দিকে প্রায় ৭০টি ও ভিতরের দিকে আরও ৩০টি দোকান আছে।

আরও পড়ুনঃ পুজোর সময় নয়! অন্নপূর্ণা যোজনার অক্টোবরের টাকা কবে ঢুকবে জানুন

তবে এত পরিকাঠামো থাকলেও যথাযথ প্রচার ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগের অভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বিশ্ববাংলা শিল্পী হাট। এই পরিস্থিতিতে এই হাটকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দফতর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুজোর পর নতুন ভাবে হাটটিকে চালু করা হবে। পাশাপাশি শিল্পীদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আগামী বছরের মার্চ মাস অবধি ছ’টি রাজ্যস্তরের হস্তশিল্প মেলা আয়োজন করার পরিকল্পনাও আছে।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মেলাগুলির মাধ্যমে শিল্পীদের তৈরি জিনিসপত্র আরও বেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন হস্তশিল্পীদের বিক্রিবাট্টা বাড়বে, তেমনই স্থানীয় যুব সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Biswa Bangla Shilpi Haat

এই বিষয়ে দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের নাম বদল করে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট করা হয়েছে। শিল্পীদের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ অবধি ছ’টি রাজ্যস্তরের হস্তশিল্প মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। এতে একদিকে যেমন শিল্পীরা উপকৃত হবেন, তেমনই হাটটিরও প্রচার বাড়বে।“

প্রায় সারা বছরই শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। সোনাঝুরির খোয়াই হাটে উপচে পড়ে ভিড়। তবে শিল্পীদের অভিযোগ, এর খুব কাছেই অবস্থিত প্রান্তিকের শিল্পী হাটে সেই অনুপাতে ক্রেতারা আসেন না। এবার সেই বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাট)  হাল ফেরাতেই বড় পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার।