বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে এবার বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হল। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদরা একজোট হয়ে সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, কারণ দেশের সংসদীয় ইতিহাসে আগে কখনও কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবি তুলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার নোটিস জমা বিরোধীদের
সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, নয়াদিল্লিতে শুক্রবার সংসদের দুই কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার নোটিস জমা দেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী সাংসদরা। এই প্রস্তাবে মোট ১৯৩ জন সাংসদ সই করেছেন। এর মধ্যে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ রয়েছেন। সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিতে এভাবে নোটিস জমা পড়ল বলে জানা গিয়েছে।
এই পদক্ষেপের মূল উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের সময় জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) একাধিক ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। তাঁদের দাবি, কিছু সিদ্ধান্তে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সংসদে জমা দেওয়া নোটিসে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহু ভোটারকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে।
তবে এই প্রস্তাবের পরেও প্রশ্ন উঠছে এভাবে কি সত্যিই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো সম্ভব? সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে প্রক্রিয়ায় সরানো যায়, ঠিক সেই একই নিয়মে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও অপসারণ করা যায়। সেক্ষেত্রে সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে প্রস্তাব পাশ হতে হবে। এরপর সেই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
গত কয়েক মাস ধরেই এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সভা থেকে তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। কয়েকদিন আগেই নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথা প্রকাশ্যে বলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘গ্যাস নিয়ে গুজব ছড়ালে ছাড় নেই’, কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
তারপর থেকেই বিরোধী দলগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এবং একে একে সাংসদদের সই সংগ্রহ করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সংসদে জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) অপসারণ করার সেই নোটিস জমা দিল বিরোধীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঘিরে এমন পদক্ষেপ আগে দেখা যায়নি বলেই ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।












