TRAI-র রিপোর্টে বড় তথ্য! ভারতে ৩১ দিনে ১.৪৪ কোটি গ্রাহক পরিবর্তন করলেন SIM, সামনে এল কারণ

Published on:

Published on:

Huge customers changed SIMs in India in 31 days, says TRAI report.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: টেলিকম রেগুলেটরি অফ ইন্ডিয়া তথা TRAI এবার একটি বড় রিপোর্ট (TRAI Report) সামনে এনেছে। মূলত, TRAI-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে যে, ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতে আনুমানিক ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬০ হাজার (১৪.৪ মিলিয়ন) মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) রিকোয়েস্ট জমা পড়েছে। এর অর্থ হলো, মোবাইল ব্যবহারকারীরা তাঁদের নম্বর পরিবর্তন না করে টেলিকম অপারেটর বদলাতে চাইছেন। তবে, এই সংখ্যাটি এপ্রিলে জমা পড়া আবেদনের সংখ্যার চেয়ে কিছুটা কম। এর কারণ হতে পারে নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্ল্যানের মূল্যবৃদ্ধি। এই কারণে গ্রাহকরা এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে নেটওয়ার্ক স্থানান্তরিত করছেন।

কী জানা গিয়েছে TRAI-র রিপোর্টে (TRAI Report)?

৩১ দিনে ১ কোটি ৪৪ লক্ষ মানুষ তাঁদের সিম কার্ড পরিবর্তন করেছেন: টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর সর্বশেষ টেলিকম সাবস্ক্রিপশন ডেটা অনুসারে, গত মে মাসে নম্বর পোর্টিংয়ের জন্য ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬০ হাজার রিকোয়েস্ট নথিভুক্ত করা হয়েছে। যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে নথিভুক্ত ১ কোটি ৪৭ লক্ষ ৪০ হাজার অনুরোধের চেয়ে সামান্য কম।

1.44 crore customers changed SIMs in India in 31 days, says TRAI report.

TRAI মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) ডেটাকে ২ টি জোনে ভাগ করে। জোন I-এর আওতায় রয়েছে উত্তর ও পশ্চিম ভারত। মে মাসে এখানে প্রায় ৭৭.৯ লক্ষ নম্বর পোর্ট করার রিকোয়েস্ট পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে, দক্ষিণ ও পূর্ব ভারত নিয়ে গঠিত জোন-II- তে প্রায় ৬৬.৭ লক্ষ রিকোয়েস্ট নথিভুক্ত হয়েছে।

ট্রাই (TRAI)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে সর্বাধিক সংখ্যক মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) রিকোয়েস্ট নথিভুক্ত হয়েছে।  যেখানে ওই মাসে ভারতজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬০ হাজার অনুরোধ রেকর্ড করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: চিন সীমান্তে এবার কড়া নজর রাখবে ভারতীয় সেনার ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল গ্রুপ! প্রস্তুত ৫,০০০ জওয়ান

কোথায় সমস্যা হচ্ছে গ্রাহকদের: TRAI-এর রিপোর্টে এটা ব্যাখ্যা করা হয়নি কেন এত বিপুল সংখ্যক মোবাইল নম্বর পোর্ট করা হচ্ছে। তবে, বাজার বিশেষজ্ঞরা এবং বিভিন্ন রিপোর্ট মনে করছে যে, দেশে এত বিপুল সংখ্যক মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) রিকোয়েস্টের নেপথ্যে  টেলিকম সংস্থাগুলির মধ্যে চলমান নেটওয়ার্ক ও ট্যারিফ যুদ্ধই মূল কারণ। জিও এবং এয়ারটেল দেশে দ্রুতগতিতে 5G সম্প্রসারণ করছে। এদিকে, গ্রাহকরা আরও ভালো নেটওয়ার্ক কভারেজ এবং কম দামের প্ল্যানের খোঁজে এক প্রোভাইডার থেকে অন্য প্রোভাইডারে স্থানান্তরিত হচ্ছেন। ভোডাফোন-আইডিয়া তথা Vi নেটওয়ার্ক সমস্যা 5G চালু করতে বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে। যা তাদের অনেক গ্রাহককে জিও বা এয়ারটেলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: বদলে গেল LPG সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম! কতদিন অন্তর মিলবে সিলিন্ডার? জেনে নিন এখনই

২০১০ সালে চালু করা হয়েছিল MNP: মূলত, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) গ্রাহকদের তাঁদের বর্তমান মোবাইল নম্বর পরিবর্তন না করেই টেলিকম অপারেটর পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়। এই ফিচারটি প্রথম ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর হরিয়াণায় চালু করা হয়েছিল এবং তারপর ২০১১ সালের ২০শে জানুয়ারি দেশব্যাপী সম্প্রসারিত করা হয়। ২০১৫ সালের ৩ জুলাই দেশব্যাপী ইন্টার-এলএসএ এমএনপি চালু করা হয়। যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাঁদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন না করেই এক লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্ভিস এরিয়া থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হতে পারেন।