বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠল মধ্যপ্রাচ্য। বুধবার লেবাননে (Lebanon) একের পর এক হামলা চালায় ইজরায়েল, যার জেরে মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে (Lebanon) ইজরায়েলের হামলা!
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সেনা বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলায় হেজবোল্লা প্রধান নায়েম কাসেমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি ইউসুফ হারশিকে নিহত হয়েছেন। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, বেইরুটেই নির্দিষ্টভাবে আঘাত হানতে এই অভিযান চালানো হয়। নিহত ইউসুফ, কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব এবং পরামর্শদাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
আরও পড়ুন: বাংলার রাজনীতিতে এবার ‘মাছ’ ইস্যু! হলদিয়া সভা থেকে রাজ্যকে নিশানা করে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত সংগঠন হেজবোল্লা পালটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাদের দাবি, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘন’-এর জবাব দিতেই তারা ইজরায়েলের দিকে রকেট ছুঁড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ইতিমধ্যেই পালটা হামলার খবরও মিলেছে। ফলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, সংঘর্ষের কেন্দ্র এখন ক্রমশ লেবাননের দিকে সরে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে উঠছে।
লেবানন সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, একদিনের হামলাতেই ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,১৬৫ জন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ইজরায়েল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। একই সুর শোনা গিয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যেও।

আরও পড়ুন:আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা! আজও অ্যালার্ট দুই বঙ্গে, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া
এই পরিস্থিতির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ইরানের সংসদের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননের (Lebanon) উপর হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে। যদিও ভারত-সহ কয়েকটি ‘বন্ধু’ দেশকে সীমিত যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, নতুন করে সংঘর্ষের জেরে সেই পরিস্থিতিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।












