বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে (New Delhi) বসতে চলেছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সেই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের (S. Jaishankar) সাম্প্রতিক মস্কো সফর। সফরের দ্বিতীয় দিনে ক্রেমলিনে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শংকর। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি। ফলে সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের উপস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে (Vladimir Putin) ব্রিকসের আমন্ত্রণ ভারতের
মস্কোয় পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে বৈঠকে অর্থনীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, জ্বালানি, সার এবং পরমাণু সহযোগিতা—দুই দেশের সম্পর্কের একাধিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জয়শংকর। একই সঙ্গে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ করতে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডোর নিয়েও কথা হয়। এই করিডোরকে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স! প্রমাণ পেলেই অ্যাকশন, নেতা-কর্মীদের ফের হুঁশিয়ারি শমীকের
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠিও পুতিনের হাতে তুলে দেন জয়শংকর। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করতে আগ্রহী মোদি। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে একাধিক রাষ্ট্রনেতার দিল্লি সফরের সম্ভাবনার মধ্যে পুতিনের উপস্থিতি হলে তা দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। যদিও রুশ প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জয়শংকর-পুতিন বৈঠকের একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার পর জয়শংকর জানান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পরমাণু শক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর এই সফর এমন একটি সময়ে হল, যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তনের মধ্যে দিল্লি ও মস্কো নিজেদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতায় পরিণত করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: Census 2027-এ বড় বদল! আর আলাদা করে গোনা হবে না ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের
সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলন ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দিল্লির মাটিতে পুতিন (Vladimir Putin) উপস্থিত থাকলে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয় আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এখন নজর রুশ প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। তবে জয়শংকরের আমন্ত্রণ এবং মোদির ব্যক্তিগত বার্তা ঘিরে পুতিনের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।













