বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় কেঁপে উঠল ফুজাইরাহ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চলে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত (India)। ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে।
ফুজাইরাহে ইরানের ড্রোন হামলায় ৩ ভারতীয়ের আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ভারতের (India):
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ইরান থেকে একাধিক ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় ফুজাইরাহর পেট্রোলিয়াম স্থাপনার দিকে। এর জেরে এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং তেল শোধনাগারের একটি অংশে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার সময় সেখানে কর্মরত তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন, যাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক, সবখানেই চর্চা! বাংলায় বিজেপির জয়ের দিকে নজর গোটা বিশ্বের
এই ঘটনার পর কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। পাশাপাশি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পাশে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে জোর দেন। আহত ভারতীয়দের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, হামলার সময় চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি সফলভাবে প্রতিহত করা হয় এবং একটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। তবে একটি ড্রোন লক্ষ্যভেদে সফল হয়, যার ফলেই ফুজাইরাহর গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়েই ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘কাঙাল’ পাকিস্তানে একী কাণ্ড! সামনে এল এমন রিপোর্ট পড়শি দেশে শুরু হইচই
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। জ্বালানি সরবরাহের উপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একইসঙ্গে ভারতসহ (India) বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটে এবং সংলাপের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।












