বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরানে যুদ্ধ (Iran War) পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথভাবে ইরান-এর উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন, যা আজ রাতেই শেষ হতে চলেছে। ডেডলাইন ঘনিয়ে আসতেই তিনি আরও বড় হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে “একটি গোটা সভ্যতার অবসান ঘটানো” হতে পারে।
ইরানে (Iran War) ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে সর্তকতা জারি দূতাবাসের
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ভারতীয় দূতাবাস তেহরান মঙ্গলবার একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টা নাগরিকদের যেখানে আছেন সেখানেই থাকতে হবে। অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
আরও পড়ুন: এড়ানো যাবে ডিজিটাল জালিয়াতি! গ্রাহকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ Axis Bank-এর
দূতাবাসের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং বহুতলের উপরের তলগুলির মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি হাইওয়ে দিয়ে যাতায়াতের প্রয়োজন হলে আগাম দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশিকাগুলি থেকে স্পষ্ট, পরিস্থিতি কতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনও সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
⚠️ Advisory as on 07 April 2026. pic.twitter.com/xsrpoOvx0f
— India in Iran (@India_in_Iran) April 7, 2026
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে আরও ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজ রাতেই আমেরিকা আরও জোরালো হামলা চালাতে পারে। ইতিমধ্যেই একাধিক হামলার ফলে তেহরানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘আজ রাতেই শেষ হবে একটি সভ্যতা’, রাখঢাক না রেখেই ইরানের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার আগাম সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত বদলাচ্ছে, তাতে ইরানে (Iran War) সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির উপরও পড়তে পারে।












