বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের (Iran-Israel-USA War) মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন শর্তে রাজি না হলে তার ফল হবে ভয়াবহ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটা গোটা সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।” যদিও একই সঙ্গে তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে হামলা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের (Iran-Israel-USA War) মধ্যেই বড়সড় হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত লেখা হবে আজ।” একই সঙ্গে ইরানের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, “ইরানের মহান জনগণকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন।” তবে এই বার্তার মধ্যেই স্পষ্ট, কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না রাখছে আমেরিকা।
আরও পড়ুন: এড়ানো যাবে ডিজিটাল জালিয়াতি! গ্রাহকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ Axis Bank-এর
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনকেই দায়ী করছে। রবিবার ধৈর্য হারিয়ে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, মঙ্গলবার ইরানে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’ পালিত হতে পারে, অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি। এতে স্পষ্ট হয়, পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন ইরানকে হরমুজ খুলে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই মঙ্গলবার খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলার খবর সামনে আসে। পাশাপাশি ইরানের মধ্যাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বায়ুসেনা বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাগুলির ফলে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি নিয়ে আর নেই চিন্তা! সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিয়ে পরমাণু শক্তি উৎপাদনে ইতিহাস গড়ল ভারত
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন কঠোর হুমকি রয়েছে, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। তবে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কট দ্রুত মেটানো না গেলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে মারাত্মক আঘাত হানতে পারে (Iran-Israel-USA War)।












