জ্বালানি নিয়ে আর নেই চিন্তা! সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিয়ে পরমাণু শক্তি উৎপাদনে ইতিহাস গড়ল ভারত

Published on:

Published on:

India makes history in nuclear power generation.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে বড় সাফল্য অর্জন করল ভারত (India)। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পরমাণু চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্বয়ংক্রিয় চেন রিঅ্যাকশনে সফলতা অর্জন করেছেন দেশের বিজ্ঞানীরা। এই সাফল্য জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, যা ভবিষ্যতের শক্তি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

পরমাণু শক্তি উৎপাদনে ইতিহাস গড়ল ভারত (India):

তামিলনাড়ুর কল্পাক্কাম-এ অবস্থিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR)-এর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা প্রকাশ্যে আনেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, এই অর্জনের ফলে ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচি দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রিঅ্যাক্টর ব্যবহৃত জ্বালানির তুলনায় বেশি শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম, যা পরমাণু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জানা যাচ্ছে, রাশিয়া-র পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এই প্রযুক্তিগত সাফল্য পেল ভারত।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই? কী বলছে গোয়েন্দা রিপোর্ট?

পরমাণু শক্তি উৎপাদনের মূল ধারণা হল নিউক্লিয়াসের ভিতরে সঞ্চিত শক্তিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে মুক্ত করা। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ দিয়ে জলকে বাষ্পে পরিণত করা হয় এবং সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এই বিশেষ রিঅ্যাক্টর ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার অর্থ হল চেন রিঅ্যাকশন একবার শুরু হলে তা নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে। সহজভাবে বললে, এটি এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে কম জ্বালানি ব্যবহার করে বেশি শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরের বিশেষত্ব হল এটি ব্যবহৃত জ্বালানির থেকেও বেশি জ্বালানি তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, যতটা জ্বালানি খরচ হয়, তার চেয়ে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই একে ‘ব্রিডার’ রিঅ্যাক্টর বলা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।

India makes history in nuclear power generation.

আরও পড়ুন: বড় পতন সোনার দামে! পয়লা বৈশাখের আগে ২২ ও ২৪ ক্যারেকষট হলুদ ধাতুর দর জানুন

ভারতের (India) লক্ষ্য আগামী দিনে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণে তৃতীয় পর্যায়ে থোরিয়ামকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ থোরিয়াম মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট ভাণ্ডারের প্রায় ২৫ শতাংশ। এক কেজি থোরিয়াম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা ভবিষ্যতে ভারতকে জ্বালানি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।