বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা। মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei) শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তিনি কোম শহরের একটি হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে ইরানের সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei) শারীরিক অবস্থা নিয়ে কী বলছে গোয়েন্দা রিপোর্ট?
আমেরিকা ও ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তরফে উপসাগরীয় দেশগুলিকে পাঠানো এক গোপন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খামেনেই কার্যত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই। পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় তিনি কোনও প্রশাসনিক বা সামরিক নির্দেশ দিতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই মেমোতে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মৃত্যু এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্রিজ হয়ে গেল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, কোন জেলায় কত নাম বাদ পড়ল? এক ক্লিকে দেখুন
যদিও এই সমস্ত দাবিকে সরাসরি স্বীকার না করলেও, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বরং তেহরানের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শত্রুপক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা করতে না পেরে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’-এর আশ্রয় নিচ্ছে। এই ধরনের খবর সেই প্রচারেরই অংশ হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে খামেনেইয়ের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অন্যদিকে গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও দাবি করা হয় যে, কোম শহরে ইতিমধ্যেই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেখানে একটি বৃহৎ কবরস্থানের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যেখানে খামেনেই পরিবারের সদস্যদের সমাধিস্থ করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘর্ষ ২০২৬-এর সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য। সেই হামলাতেই গুরুতর জখম হন মোজতবা।
পরবর্তীতে মোজতোবা (Mojtaba Khamenei) নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, এতদিনে একবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। এই অনুপস্থিতিই নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসায় ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও সরকারিভাবে নীরবতা বজায় রেখেছে তেহরান, তবুও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল এবং উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।












