বাংলাহান্ট ডেস্ক: ট্রেনে সফরের সময়ে মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আরও কড়াকড়ি করতে চলেছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। বিশেষ করে রাতের বেলায় ট্রেনের কামরায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে পুরনো নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে বোর্ডের (Indian Railways Boar) নির্দেশ অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের কামরায় মোবাইল চার্জিং (Mobile Charging) পয়েন্ট বন্ধ রাখতে হবে। এই নিয়ম নতুন নয়, ২০১৪ সালেই এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি একটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর নিয়মটি যাতে যথাযথভাবে মানা হয়, তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে রাতের ট্রেনযাত্রায় যাত্রীদের মোবাইল ফোন বা পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ দেওয়ার পরিকল্পনা করার আগে এই সময়সীমার কথা মাথায় রাখতে হবে।
ট্রেনে মোবাইল চার্জ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ভারতীয় রেলের (Indian Railways):
গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা নির্দেশিকায় রেলওয়ে বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ১৯ জুনের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নিয়ম কার্যকর করতে হবে। এত দিন নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সব ক্ষেত্রে যে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না, সাম্প্রতিক ঘটনাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ট্রেনের কামরায় বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রাতে যাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে থাকেন, তখন কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বেরোলে বা আগুন লাগলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখা জরুরি বলে মনে করছে রেল (Indian Railways)।
আরও পড়ুন: মন্ত্রিত্ব সামলানোর পাশাপাশি লেখালেখিতে মন! এনকাউন্টার নিয়ে কবিতা লিখলেন অগ্নিমিত্রা
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ট্রেনের কর্মীরা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করেননি। সেই সময় এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জে বসানো ছিল। চার্জ দেওয়ার সময় যন্ত্রটি থেকে প্রথমে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে, পরে সেটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় বড়সড় বিপর্যয় না ঘটলেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলন্ত ট্রেনে এমন ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত। বিশেষত ঘুমন্ত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো কিংবা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এই ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর সমস্ত জোনাল রেলওয়েকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে বোর্ড। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা যাতে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই নিয়ম পালনে কোনও রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে। শুধু নির্দেশ জারি করেই দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে না রেল। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে স ইউইউচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ, নিয়ম জানা থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ে কাজটি সম্পন্ন করা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’! ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে কলকাতার AQI নামল ১০০-র নীচে
নিয়ম মানাও হচ্ছে কি⁴ না, তা খতিকে আরও বলেন আমরা বউ য়ে দেখতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে রেলওয়ে বোর্ড। আধিকারিক এবং সুপারভাইজারদের আকস্মিক পরিদর্শন বা সারপ্রাইজ ভিজিট চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেনের কামরায় নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা হবে। রেলের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সামান্য অসতর্কতা থেকে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমানো। যাত্রীদেরও দীর্ঘ যাত্রার আগে ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রে পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। তবে এই নির্দেশের অর্থ, রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহার করা যাবে না; অন্য সময়ে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে (Indian Railways)।














