চারিদিকে লাশের স্তূপ, ভয়াবহ জঙ্গি হামলা ইরানে! জোড়া বিষ্ফোরণে মৃত দু’শোর বেশি, বাড়তে পারে সংখ্যা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিমান হামলায় নিহত ইরানী (Iran) জেনারেল কাসেম সোলেইমানির (Qasem Soleimani) মৃত্যু বার্ষিকীতে ঘটে গেল জোড়া বিষ্ফোরক (Double Blast)। সূত্রের খবর, এই জোড়া বিষ্ফোরণে কমপক্ষে ১০৩ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন কমপক্ষে ১৭১ জন। যারমধ্যে কিছুজনের অবস্থা নাকি বেশ আশঙ্কাজনক। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলেই খবর।

   

জানা যাচ্ছে, এইদিন ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের প্রয়াত নেতা কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন। সোলেইমানির মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন সকলে। তবে কে জানতো যে, এইদিনই তাদের জীবনের শেষ দিন হতে চলেছে! সূত্রের খবর, কেরমানের সাহেব আল-জামান মসজিদের কাছে সোলাইমানির সমাধি থেকে কয়েকশ মিটার দূরে বিস্ফোরণ দুটি ঘটেছে।

প্রাথমিকভাবে এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এদিকে কেরমানের ডেপুটি গভর্নর বিস্ফোরণের এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সাথে তদন্তকারী এজেন্সিরাও ঘটনার তল খুঁজে বের করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

আরও পড়ুন : মোদী জমানার বড় সাফল্য! একসাথে ১৯৬ জন জেল বন্দিকে ফেরানো হচ্ছে পাকিস্তান থেকে

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মার্কিন ড্রোন মামলায় প্রাণ হারানো কাসেম সোলেইমানিকে ‘বীর যোদ্ধা’র চোখেই দেখেন ইরানের সিংহ ভাগ মানুষ। এইদিন তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলের গন্তব্য ছিল ‘শহীদ গুলজার’ সমাধিস্থল। এরপর সোলেইমানির সমাধিস্থল থেকে ৭০০ মিটার দূরে প্রথম বিষ্ফোরণটি ঘটে। এবং তার পরমুহুর্তেই দ্বিতীয় বিষ্ফোরণটি ঘটে এক কিলোমিটার দূরে।

আরও পড়ুন : কলকাতায় ঘর সাজাচ্ছে RSS? উপেন-কল্যাণের পরে বিক্রম, ভিক্টরের বাড়িতে ভাগবত, জল্পনা তুঙ্গে

ঘটনার আকস্মিকতায় কয়েক মুহুর্তের জন্য থমকে যায় গোটা শহর। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছিন্নিভিন্ন মৃতদেহদের দেখে বাকিরা পালানোর চেষ্টা করে। এদিকে বিষ্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রায় ১০৩ জন মানুষের।

আরও পড়ুন : ‘চন্দ্রযান ৩’র পর মিশন ‘ব্ল্যাকহোল’! ইসরোর নয়া অভিযানের রূপকার এই বাঙালি বিজ্ঞানী, চেনেন তাঁকে?

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ইরানের জাতীয় বিপর্যয় মুখপাত্র বাবাক ইয়েকটা পারাসত জানান, ‘আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।’ জানিয়ে রাখি, কাসেম সোলেইমানির মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি। ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুর আগে তার পদমর্যাদা ছিল সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরেই।