চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছিল ২০ বার! অবশেষে এনকাউন্টারে খতম জইশ জঙ্গি আদিল

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জইশ-এ-মহম্মদের হয়ে নাশকতায় যুক্ত এবং লস্কর-ই-তৈবার কুখ্যাত কমান্ডার সইফুল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদিলকে নিকেশ করল নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) কিশতোয়ার জেলার ছাত্রু এলাকায় বুধবার বিকেলে রুদ্ধশ্বাস গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে এই কুখ্যাত জঙ্গির। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ছিল আদিল। এর আগে অন্তত ২০ বার ঘেরাটোপ ভেঙে পালিয়ে গিয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েছিল সে।

জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) এনকাউন্টারে খতম জইশ জঙ্গি আদিল

নিরাপত্তা বাহিনীর এক সিনিয়র কর্তা জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে ছাত্রু এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। সন্ধ্যার দিকে জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত হতেই শুরু হয় গুলির লড়াই। বেশ কিছু সময় ধরে চলা সংঘর্ষে আদিল নিহত হয়। কর্তার কথায়, “বহুবার সে পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার আর রেহাই পায়নি।” গত ১৮ মাসে পাহাড়ি গুহা ও অস্থায়ী আশ্রয় থেকে সে একাধিক নাশকতার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ভেবেচিন্তেই ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত! বাংলাদেশের পাশে থেকে কী জানালেন পাক প্রধানমন্ত্রী?

আদিলের মৃত্যু কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্যই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও স্বস্তির খবর। কিশতোয়ার ও সংলগ্ন এলাকায় তার দৌরাত্ম্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আদিলের নেতৃত্বে একাধিকবার নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার ছক কষা হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষকেও হুমকি দেওয়া হতো।

এই ঘটনার পর থেকেই আরও এক কুখ্যাত জঙ্গি, লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা পলাতক। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, আদিল নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সইফুল্লা ছাত্রু এলাকা থেকে উত্তর দিকে পালিয়েছে। পাকিস্তান থেকে প্রায় দু’বছর আগে অনুপ্রবেশ করা সইফুল্লা কিশতোয়ার ও ডোডা জেলায় একাধিক হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। তাকে ধরতে ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক অভিযান শুরু হয়েছে।

Jaish militant Adil killed in an encounter in Jammu and Kashmir.

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের কারণেই বরবাদ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট! হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে BCB

উপত্যকার দুর্গম পার্বত্য এলাকা ও জঙ্গলে জঙ্গিদের খোঁজে নামানো হয়েছে ড্রোন ও স্নিফার ডগ। চলছে টানা তল্লাশি অভিযান। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তারা জানিয়েছেন, আদিল নিকেশের মাধ্যমে জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখন লক্ষ্য একটাই—পলাতক সইফুল্লা এবং তার সহযোগীদের দ্রুত পাকড়াও করে উপত্যকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।