বাংলা হান্ট ডেস্ক : দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election) প্রাক্কালে হুগলির আরামবাগে (Arambagh violence) হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রচারের শেষ দিনে পরপর সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের। এই আবহেই গোটা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নজরদারি আরও কড়া হয়েছে।
আরামবাগের ঘটনায় রিপোর্ট জমা কমিশনে (Election Commission)
এই প্রেক্ষাপটে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জেলাশাসকের তরফ থেকেও পৃথকভাবে ঘটনাবলির বিবরণ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় দুটি আলাদা সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল পুলিশি রিপোর্টের প্রাপ্তিস্বীকার করে বলেন, “আরামবাগের ঘটনায় তিনটি বিষয় জানা যাচ্ছে। কোথাও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা বলা হচ্ছে। জেলাশাসক এবং পুলিশের তরফে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কমিশন সব রিপোর্ট এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানাতে পারবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রবিবার থেকেই দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। এর আগে বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকায় দুষ্কৃতীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “এ বার থেকে যে কোনও ধরনের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
ঘটনার সূত্রপাত, সোমবার সকালে গোঘাট থানার এলাকায় একটি রাজনৈতিক শোভাযাত্রার সময় বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে খবর। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও অভিযানে নেমে পাঁচ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুপুর নাগাদ আরামবাগে তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রথমে বিষয়টি দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে মনে হলেও, পরে স্থানীয় তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানায়, কিছু দুষ্কৃতীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যাদের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন : ভোটের আগে ফেসবুক-গুগলে কোটি টাকার প্রচার, কোন দল কত খরচ করল জানেন?
এই ঘটনায় মোট সাত জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিন জনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে । বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের অশান্তি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় থাকলেও, ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।












