বাংলা হান্ট ডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনকে (Assembly Election) সামনে রেখে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসন। বিশেষ করে মহানগরী কলকাতায় যাতে কোনওভাবেই অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে দিকে নজর দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। এই প্রেক্ষিতেই একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ(Kolkata Police)।
নির্বাচনী(Assembly Election) হিংসা রুখতে তৎপর কলকাতা পুলিশ
এবারের বিধানসভা ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার প্রেক্ষিতেই বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ শুরু করেছে তারা। ‘সম্ভাব্য অশান্তিবাজ’-দেরকে চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি থানায় এলাকা থেকে গন্ডগোল করতে পারে এমন দশজনকে চিহ্নিত করা হবে।
পুলিশি সূত্রের খবর, প্রতিটি থানা থেকে এমনই দশ জনকে চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করার খবর ডেপুটি কমিশনারদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই ডেপুটি কমিশনাররা প্রত্যেকটি থানায় সেই খবর পৌঁছে দিয়েছেন। নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। তাই কাজ করতে হবে দ্রুত গতিতে। যত শীঘ্রই সম্ভব সেই তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করে ফেলার চেষ্টা চলছে।
প্রাক নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নতুন নয়। আগে নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন আগে থেকেই সতর্ক ছিল। ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী আবহে এই দুষ্কৃতীদের ওপর নজর রেখে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছে কমিশন।
পুলিশের সাথে কমিশনের বৈঠকে উঠে এসেছে, জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিংসা ছড়ানো ও অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু অভিযুক্তরা নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন, যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে সেই সকল থানার দায়িত্বে কোন পুলিশ আধিকারিকরা ছিলেন তাদের নামের তালিকাও চেয়েছিল কমিশন।

আরও পড়ুন : ‘প্রয়োজনে পদক্ষেপ..,’ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ শুনে বলল সুপ্রিম কোর্ট
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন যে কঠোর এবং প্রস্তুত, তা এই উদ্যোগ থেকেই স্পষ্ট। ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।












