ছোট্ট এক গ্রামের ছেলে থেকে আজ ফিনটেক কিং, তাক লাগাবে Groww IPO ঘিরে ললিত কেশরের সাফল্যের কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজ বলব এক ছোট্ট গ্রাম থেকে এসে কিভাবে এক যুবক সাফল্যের (Success Story) চূড়ায় পৌঁছে ফিনটেক কিং হয়ে উঠল। শেয়ার কেনা-বেচা সাধারণ মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জটিল ও ভীতিকর একটি প্রক্রিয়া ছিল। সেই জটিলতাকে ভেঙে সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তোলার ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় গ্রো (Groww)। লক্ষ্য ছিল এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে বিনিয়োগ করা হবে মোবাইলে ছবি তোলার মতোই সহজ। আজ সেই ধারণারই বাস্তব রূপ গ্রোউ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে এবং যা ভারতের লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ভরসার নাম হয়ে উঠেছে।

ললিত কেশরের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

এই সাফল্যের মাঝেই গ্রোউ-এর মূল সংস্থা বিলিয়নব্রেইনস গ্যারেজ ভেঞ্চারস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর থেকে বিনিয়োগকারীদের জন্য খুলেছে। এই সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ললিত কেশরের জীবনকাহিনি যেন আধুনিক ভারতের এক অনুপ্রেরণার গল্প। মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলার একটি ছোট গ্রাম লেপায় বড় হওয়া ললিত ছোটবেলায় মাঠে খেলাধুলা আর বাবাকে কৃষিকাজ করতে দেখেই জীবনসংগ্রামের পাঠ নিয়েছিলেন। সেই গ্রামবাংলার ছেলে আজ ভারতের দ্রুততম বর্ধনশীল ফিনটেক সংস্থার অন্যতম মুখ।

আরও পড়ুন: রিখটার স্কেলে ৬! মায়ানমারের ভূমিকম্পে প্রভাব কলকাতা ও বাংলায়

পরিবারে বড় কোনও ব্যবসা বা আর্থিক প্রাচুর্য ছিল না। তবুও স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল ললিতের। সেই স্বপ্নই তাকে পৌঁছে দেয় আইআইটি বোম্বেতে, যেখানে তিনি বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে পড়াশোনা করেন। সেখানেই প্রযুক্তি ও সমস্যার সমাধান নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। আইআইটি-র পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে এডুফ্লিক্স নামে একটি অনলাইন লার্নিং স্টার্টআপ শুরু করেন, যদিও তা সফল হয়নি। সেই ব্যর্থতার সঙ্গে ঋণের বোঝাও এসে পড়ে তাঁর কাঁধে।

ঋণ শোধ এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য ললিত যোগ দেন ফ্লিপকার্টে। সেখানে সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি ফ্লিপকার্ট মার্কেটপ্লেস ও ফ্লিপকার্ট কুইকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। তবে কর্পোরেট চাকরির নিরাপত্তা তাঁকে তৃপ্ত করতে পারেনি। নিজের মতো করে বড় কিছু করার তাগিদ থেকেই ২০১৬ সালে তিনি বন্ধু হর্ষ জৈন, নীরজ সিং ও ঈশান বনসালের সঙ্গে মিলিত হয়ে গ্রোউ প্রতিষ্ঠা করেন।

Lalit Keshre's Success Story will inspire you.

আরও পড়ুন: শুল্ক কমলেও কাটছে না ধোঁয়াশা!ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির লাভ-লোকসান নিয়ে জারি চর্চা

প্রথমে মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে গ্রোউ তার পরিষেবা বিস্তৃত করে স্টক মার্কেট, ইটিএফ ও আইপিও পর্যন্ত নিয়ে যায়। আজ গ্রোউ-এর সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১.১৯ কোটিরও বেশি, যা তাকে ভারতের শীর্ষ অনলাইন ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্মের আসনে বসিয়েছে। আইপিওর আগে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতারা প্রায় ২৬০০ কোটি টাকার প্রণোদনা পেলেও ললিত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়, বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়া যা আগামী ১০০ বছর টিকে থাকবে। ₹৬,৬৩২ কোটি মূল্যের আইপিও এবং টাইম ম্যাগাজিনের “১০০ নেক্সট ২৫” তালিকায় জায়গা পাওয়া ললিত কেশরের যাত্রা আজও প্রমাণ করে—স্বপ্ন যদি বড় হয়, তবে গ্রামের গণ্ডিও বিশ্বমুখী হতে পারে।