ভারতে একাধিক হামলায় জড়িত! লাহোরে লস্করের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজাকে লক্ষ্য করে গুলি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। লাহোরে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন লশকর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা আমির হামজা। স্থানীয় সূত্রের খবর, একটি সংবাদমাধ্যমের দফতরের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, একাংশের দাবি এই হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি সংগঠনটি।

জানা গিয়েছে, লাহোরের ব্যস্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে, যেখানে আচমকাই হামজ়ার উপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই হামলা ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা ছড়িয়েছে, বিশেষত জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা গোষ্ঠীসংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:কাজ গেলেও দিতে হবে ভোট! ভিনরাজ্য থেকে বঙ্গে ফিরছেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক

হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আমির হামজা দীর্ঘদিন ধরেই লশকর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। তিনি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এবং একাধিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি। ভারতে সংঘটিত বেশ কিছু জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আফগান মুজাহিদিন হিসেবে পরিচিত হামজা তাঁর উগ্র বক্তৃতা এবং লেখনীর জন্যও কুখ্যাত ছিলেন।

পাকিস্তানে (Pakistan) লস্করের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজাকে লক্ষ্য করে গুলি

একসময় তিনি লশকর পরিচালিত প্রকাশনার সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাতেন এবং ‘কাফিলা দাওয়াত অওর শাহাদত’-এর মতো বই লিখে জঙ্গি মতাদর্শ প্রচার করতেন। মার্কিন ট্রেজারি দফতরের নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ, নতুন সদস্য নিয়োগ এবং বিভিন্ন কৌশলগত আলোচনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। এই কারণে আন্তর্জাতিক স্তরেও তিনি নজরবন্দি ছিলেন।

Lashkar founding member Amir Hamza shot in Pakistan.

আরও পড়ুন: রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য হিসেবে পেনশন গ্রহণে অনিচ্ছুক! চিঠি লিখে জানালেন বিকাশরঞ্জন

তবে ২০১৮ সালের পর লশকর-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি হলে তিনি কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘জইশ-ই-মানকফা’ নামে একটি আলাদা সংগঠন গড়ে তোলেন বলে সূত্রের খবর। যদিও লশকরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি বলেই মনে করা হয়। সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে পাকিস্তানে (Pakistan) জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।