বাংলা হান্ট ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) কেন্দ্র করে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Worker) মধ্যে দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। জীবিকার ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বাংলায় ফিরছেন শুধুমাত্র ভোট দিতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের জন্য বহু শ্রমিকরা মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু বা কেউ হায়দ্রাবাদে থাকেন। এসআইআর নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্ক তাদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন পরিযায়ীরা (Migrant Worker):
বহু পরিযায়ী শ্রমিক আশঙ্কা করছেন, ভোট না দিলে হয়তো ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে। অনেকেই মনে করছেন ভোট না দিলে হয়তো নাগরিকত্ব থেকে তাদের নাম বাদ যাবে। বিপুল পরিমাণে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ফেরার প্রস্তুতি নিতেই দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিটগুলি ইতিমধ্যেই ওয়েটিংয়ে চলছে।
এক পরিযায়ী শ্রমিকের কথায়, “আমাদের ট্রেনের টিকিট সম্ভবত কনফার্ম হবে না। অনেক লম্বা ওয়েটিং লিস্ট। তাও আমরা রওনা হচ্ছি। কাজ গেলে যাক, কিছু যায় আসে না।” জানা গেছে, তিনি তার পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে গ্রামে ফিরছেন ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ওই পরিযায়ী শ্রমিক আরও বলেন, তার মতো এমন কয়েকশো মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য নাকি বাংলায় ফিরছেন।
বঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফা দ্বিতীয় দফা যথাক্রমে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকে মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে কেউ গৃহকর্মী, কেউ আয়া, কেউ রাঁধুনী বা কেউ দিনমজুরের কাজ করেন। ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরার চাহিদা বেড়েছে। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে আবার কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, পরিযায়ীদের রাজ্যে ফেরার পিছনে আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে আসছে এলপিজি গ্যাসের অভাব ও কাজের অনিশ্চয়তা। গয়না প্রস্তুতকারক এক ব্যক্তির মতে, “এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতির মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে মালিকদের পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমার একাধিক কারখানায় প্রায় ৪০ জন কারিগর কাজ করেন। তাদের অর্ধেক চলে গেছেন। শীঘ্রই আরও অনেকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রেনের অভাবে বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের যে দাবি, তার পিছনে এসআইআর একটি প্রধান কারণ।”

আরও পড়ুন : সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটকর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের! মানতে হবে এই নিয়মগুলি
ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের এই ব্যাপক ঘরে ফেরা শুধু নির্বাচনী আবহই নয়, সমাজের এক বাস্তব ছবিও তুলে ধরছে। জীবিকার অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভোট দিতে ফেরার এই প্রবণতা নিজেদের উপস্থিতি ও গুরুত্ব বোঝানোর একটি বড় সুযোগ।












