বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের (Assembly Election) আবহে যখন প্রশাসনিক প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উঠে এল উদ্বেগজনক অভিযোগ। ভোটকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতি সামলাতে তৎপর নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। অভিযোগ, প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে অন্যান্য পোলিং অফিসারদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভোটকর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India):
এই প্রেক্ষাপটে প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্যান্য ভোটকর্মীদের জন্য ২৫ দফার একটি ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস’ তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। অর্থাৎ ভোট কর্মীদের কী করণীয় আর কী না করণীয় এই নিয়ে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, “অপরিচিতদের ফোন নম্বর দেবেন না, কারও থেকে সাহায্য বা উপহারও নেবেন না। কেউ কিছু প্রস্তাব বা হুমকি দিয়ে ফোন করলে অবিলম্বে সেক্টর অফিসারকে জানাতে হবে।”
কমিশনের তরফের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মোবাইল দেখার অনুমতি পেয়েছেন একমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার। এই নিয়ম মানতে হবে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টকেও। এমনকি ভোটাররা মোবাইল নিয়ে বসে ঢুকলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের বের করে দেবেন। সেক্টর অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসারের সঙ্গে পরিচয় করে নিতে হবে কোনও সমস্যা বুঝলেই তাদের যোগাযোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব আধিকারিকের ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুথে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি ও আচরণ নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কোনও দলের পোলিং এজেন্ট বিকল্প কাউকে না রেখে বুথ ছেড়ে চলে গেলে, সেই বিষয়টি প্রিসাইডিং অফিসারকে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে কারণ জানতে হবে এবং যদি ভয় বা চাপের কারণে এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। কোনও পোলিং এজেন্ট ৩০ মিনিটের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে সেটি সেক্টর অফিসারকে জানাতে হবে।
নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচন আধিকারিকের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করার পরেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। একই সঙ্গে ভোটকর্মীদের অযথা বুথের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : অবাক কাণ্ড! বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই খাস কলকাতার ১০০ টি বুথে, বড় অ্যাকশন নির্বাচন কমিশনের
এছাড়াও বলা হয়েছে, স্থানীয় ক্লাব, চায়ের দোকান বা অন্য কোনও জায়গায় স্থানীয়দের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলাপচারিতা করা যাবে না। খাবার বা পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বা রিটার্নিং অফিসারের ব্যবস্থার বাইরে অন্য কারও কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করা যাবে না। স্থানীয় কেউ ব্যবস্থা করতে চাইলেও তা নেওয়া নিষিদ্ধ। ভোটকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভোটপ্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখতেই গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।












